ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

কৃষি

দলবদ্ধ হয়ে তরমুজ চাষে মিলছে সফলতা 

মো. নিজাম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২, ২০২৩
দলবদ্ধ হয়ে তরমুজ চাষে মিলছে সফলতা 

লক্ষ্মীপুর: নিজেদের কৃষি জমি নেই। কিন্তু চাষাবাদে অভিজ্ঞ তারা।

তাই দলবদ্ধ হয়ে নেমে পড়েছেন তরমুজ চাষে। অন্যের জমি লিজ নিয়ে উচ্চ ফলনশীল তরমুজ চাষ করে লাভবানও হয়েছেন। বলতে গেলে চাষাবাদে সফল তারা। এমন এক কৃষক দলের দেখা মিলেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজালের বাঁধের হাট এলাকায়।  

এসব কৃষকদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বার থানার দক্ষিণ কচুরিয়া এলাকায়। জমিতে অস্থায়ীভাবে তাবু তৈরি করে তাতে অবস্থান নিয়ে কৃষিকাজ করেন তারা।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ একরের একটি জমিতে উচ্চ ফলনশীল তরমুজের বীজ বপনের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে ওই জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ধান কাটার পরপরই জমি হালচাল দেওয়া হয়ে গেছে। কয়েকজন কৃষি শ্রমিক জমি তৈরি করছেন। কেউ বীজ বপন করছেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বীজ বপনের কাজ শেষ হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চারা গজাবে বলে জানান কৃষকরা। এরই মধ্যে তারা জমির এককোনে একটি তাবু তৈরি করে নিয়েছেন। পুরো মৌসুমজুড়ে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকরা ওই তাবুতে থেকে চাষাবাদ করবেন। প্রয়োজনীয় সার এবং বীজ রাখা হয়েছে তাবুতে। সঙ্গে তাদের খাদ্য সামগ্রীও নিয়ে এসেছেন।  

কৃষক আবদুল মমিন, নোমান উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০ একর জমি লিজ নিয়ে সেখানে তরমুজের বীজ বপন শুরু করছেন। গত কয়েক বছর ধরে এসব এলাকায় তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে তরমুজের চাষ করে আসছেন। চাষাবাদে সফলতাও আসে তাদের। গত বছর চর রমিজ এলাকায় ১০ জনের একটি দল ২৬ একর জমিতে চাষাবাদ করে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এতে প্রত্যেক কৃষকের ভাগে পড়েছে ৫ লাখের মতো। তাদের এলাকার অন্তত ৩০টি দল মিলে প্রায় ৩০০ একর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ করছেন। সবাই লাভবান হচ্ছেন।  

চাষি আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, চলতি মৌসুমে আমরা ৮ জন মিলে ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেছি। জমির মালিকদের কাছ থেকে ৫ মাসের জন্য একর প্রতি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা করে লিজ নিই। পুরো জমিই এক ক্ষেতে। জমি তৈরি শুরু করে মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার মাস সময় লাগে। উৎপাদিত তরমুজ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের আড়তে পাইকারি বিক্রি করা হয়। চাষাবাদ শুরু থেকে মৌসুমের পুরো সময়টা আমরা ক্ষেতে অবস্থান করি। দলবদ্ধ হয়ে জমিতে কাজ করি। মৌসুম শেষ করে সবকিছু গুটিয়ে চলে যাব।  

দলবদ্ধ হয়ে চাষাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা দলবদ্ধ হয়ে কৃষিকাজ করে আসছি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতাম। তবে গত কয়েক বছর থেকে তরমুজের চাষাবাদ করে আসছি। এতে প্রচুর খরচ পড়ে। প্রতি কানি জমিতে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়ে। একসঙ্গে ২০ থেকে ৪০ একর জমিতে চাষাবাদ করি। এতে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এত বড় চাষাবাদ খরচ একজনের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। তাই দলবদ্ধ হয়ে চাষাবাদ করি। খরচ সমান ভাগে ভাগ করে নিই, আবার লাভ-লোকসানও সমানভাবে ভাগ করে নিই।  

তিনি বলেন, বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করি আমরা। এক্ষেত্রে খরচ বেশি পড়লেও উৎপাদন ভালো হয়। গত বছর পাশের ২০ একরের একটি জমিতে ১০ জন মিলে তরমুজের চাষ করি। বিক্রি হয়েছে ৮৫ লাখ টাকা মতো। তখন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ ছিল। অনুকূলে থাকলে কোটি টাকা উপরে তরমুজ বিক্রি করতে পারতাম। খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকার মতো ভাগে পেয়েছি।  

তিনি জানিয়েছেন, দলবদ্ধ হয়ে কৃষিকাজ করায় এখন তাদের এলাকার অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে দলবদ্ধ এ চাষাবাদে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঙ্গে তাদের কোনো সমন্বয় নেই এবং কৃষিবিভাগ থেকে তারা কোনো সহযোগিতাও নেন না বলে জানান।  

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাতে ১২০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গেল বছর চাষাবাদ হয়েছে ৯০ হেক্টর জমিতে।  

তরমুজ চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতি উপজেলার সদ্য বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, সমন্বিতভাবে তরমুজ চাষাবাদ একটি ভালো উদ্যোগ। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গেল বছরও ওই অঞ্চলে কৃষকরা দলবদ্ধ হয়ে তরমুজ চাষাবাদ করেছেন, চলতি মৌসুমেও চাষাবাদ শুরু হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০২, ২০২৩
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।