ঢাকা, বুধবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ শাবান ১৪৪৫

কৃষি

মানকচু চাষ করে সফল মেহেরপুরের সাহেব আলী

জুলফিকার আলী কানন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৩৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০২৩
মানকচু চাষ করে সফল মেহেরপুরের সাহেব আলী

মেহেরপুর: বাড়ির আশে পাশের পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মানকচুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন গাংনী উপজেলার ধানখোল ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের প্রবাস ফেরত সাহেব আলী।

নিজ বাড়ির আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা মানকচুকে তিনি এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চাষের আওতায় এনে অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি করে দিয়েছেন।

মানকচু সাধারণত বাড়ির আনাচে-কানাচে পরিত্যাক্ত জায়গায় হয়ে থাকে। মানকচুর ভর্তা ছাড়াও সবজি হিসেবে এর কদর রয়েছে মানুষের কাছে। মানকচু দিয়ে অনেকে ডালের সঙ্গে মিশিয়ে সুস্বাদু বড়ি বানিয়ে থাকেন। মানকচু সবজি হিসেবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় সবজি ব্যবসায়ীরা চাষিদের বাড়ি ও জমি থেকে মানকচু কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন অনেকেই। অথচ, এই সবজিটি এর আগে কেউ বাণিজ্যিকভাবে চাষের আওতায় আনেনি। জেলায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মাঠে আবাদ করে সাড়া জাগিয়েছেন প্রবাস ফেরত সাহেব আলী।

সাহেব আলী বলেন, ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা নিয়েই বিদেশ থেকে ফিরে তার ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করেন মানকচু। এই জমিতে সে প্রায় দুই হাজার মানকচুর বীজ রোপণ করেন। বর্তমানে মানকচু ৪—৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করে দিয়েছি। প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে প্রতি পিচ ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এই জমি থেকে লক্ষাধিক টাকার মানকচু বিক্রির আশা করছেন চাষি সাহেব আলী।

তিনি আরও বলেন, কচু চাষের সুবিধা হলো অনুর্বর পরিত্যাক্ত জমিতে স্বল্প খরচে করা যায় এবং সার-বিষ কিছুই লাগেনা। আমার এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। এখান থেকে আমি এক লাখ টাকার মানকচু বিক্রি করবো বলে আশা করছি।

ভাটপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ির আশে পাশে অনেক মানকচু হয়ে থাকে। মানকচু এলাকার মানুষ ভর্তা হিসেবে ও রান্না করে সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন। মানকচু সাধারণত অবহেলা আর অনাদরেই বেড়ে ওঠে। সাহেব আলী কচু চাষ করে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এলাকার অনেকেই মানকচু বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার পরামর্শ নিচ্ছেন তার কাছ থেকে।

স্থানীয় কৃষক আলামিন ও জুলমত আলী বলেন, মানকচু স্বল্প খরচ ও পরিশ্রমে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।  

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকতা লাভলী খাতুন বলেন, স্থানীয় কৃষক সাহেব আলী মানকচুর চাষে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। এটি একটি লাভজনক চাষ হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করেন। বাড়ির আঙ্গিনা থেকে মানকচু চাষের আওতায় আনতে চাষিদের উদ্বুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৯, ২০২৩
এসএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।