মৌলভীবাজার: কুয়াশাঢাকা শীতের সকাল। দূরের জিনিস দেখার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি ভাড়াউড়া চা-বাগানের পথে এই লালশাকের ফেরিওয়ালাকে দেখা গেলো। তার নাম রঞ্জিত দেব। প্রতিদিন তিনি ইছবপুর গ্রাম থেকে চা-বাগানের বাজারে নিয়ে লালশাক বিক্রি করে থাকেন।
আমাদের শাক-সবজির মধ্যে অতি পরিচিত লালশাক। এটি সবাই খায়। চিকিৎসকরাও রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভে সবুজ সবজির পাশাপাশি এই লালশাক খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান-যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, মোটামুটি দাম ভালো পাই বলে গ্রামের বাজার থেকে বাগানে বাজারে প্রতিদিন সকালে লালশাক ভারে করে নিয়ে যাই। এগুলো নিজের জমিতে চাষ করা শাক। গোবর-সার ছাড়া আর কিছুই দেইনি। খেতে খুবই সুস্বাদু। দরদাম সম্পর্কে ওই কৃষক বলেন, দুই আঁটিতে প্রায় এক কেজি লালশাক আছে। কেজিপ্রতি দাম পড়ে প্রায় ৩০ টাকা। আমি আজ মোট ৬০ আঁটি শাক নিয়ে এসেছি। আশা করছি, সব আঁটিগুলো বিক্রি হয়ে যাবে।
জায়গার পরিমাণ এবং চাষাবাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, নিজের ১৫ শতক (শতাংশ) জমিতে প্রায় এক মাস আগে লালশাক লাগিয়েছি। খরচ হয়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা। আমি নিজেই সবজি ফলাই। নিজেই কাঁধে করে সবজি বিক্রি করি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্র দেব লালশাকের উপকারিতা সম্পর্কে বাংলানিউজকে বলেন, লালশাকে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। এর জন্য আমাদের দৃষ্টিশক্তির বাড়াতে বা দৃষ্টিশক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও এখানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধ করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রেখে লালশাক হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। মস্তিস্ক এবং হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতে লালশাক উপকারী।
লালশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় দেহের রক্তশূন্যতা দূর করে। এছাড়াও এটি দাঁতের সুস্থতা, শরীরের হাড়ের গঠন, গর্ভবর্তী এবং প্রসূতি মায়েদের দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ সময়: ০৮২৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৬, ২০২০
বিবিবি/এএটি