শনিবার (০২ নভেম্বর) রাজধানীর লালমাটিয়ায় বেঙ্গল বইয়ে অনুষ্ঠিত ‘সমাজ রাষ্ট্র বিবর্তন: জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক গুণিজন বক্তৃতামালা’ শিরোনামের বই প্রকাশনা উৎসবে এমন কথাই বলেন বক্তারা।
২০১৭ থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজন করে আসছে স্মারক বক্তৃতার।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া উৎসবে আরও আলোচনা করেন ইমেরিটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ আকবর আলী খান এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আহরার আহমদ।
আনিসুজ্জামান বলেন, যারা জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক স্মারক বক্তৃতা দিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই আব্দুর রাজ্জাকের কাছে গিয়েছিলেন। কেউ বেশি, কেউ কম। তবে প্রত্যেকেরই তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। আমাদের সময়ে একজন অসাধারণ মনীষি ছিলেন তিনি। জ্ঞানের প্রায়োগিক দিককে অস্বীকার না করে তিনি জ্ঞানের জন্য জ্ঞানচর্চা করতেন।
তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক সব ধরণের বই পড়তেন। কোন বিষয়কে তুচ্ছ মনে করতেন না। সবকিছু থেকেই চিন্তার খোরাক খুঁজে পেতেন। তার কাছে গবেষণার জন্য যিনিই গিয়েছেন, সবাইকেই তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। এমন মানুষ আমাদের সময় দ্বিতীয়টি ছিলেন না।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজনৈতিক বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন। তাহলে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো আর থাকবে না। আব্দুর রাজ্জাক জাতীয়তাবাদী ছিলেন। প্রথমে পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু এ অবস্থান তার বেশিদিন ছিলো না। পরে তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকেন।
আকবর আলী খান বলেন, আমাদের দেশে যেখানে রাজনীতি, সেখানেই বিভাজন। জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক হিসেবে সংগঠন নয়, সামাজিক সংগঠন হিসেবে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের দেশে অর্থনীতি নিয়ে অনেক সংগঠন রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করার জন্য কোন সংগঠন নেই। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারিনি গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার সংস্থা না থাকার জন্য। সে ক্ষেত্রে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা রয়েছে। এ ফাউন্ডেশন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কাজ করছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৬০৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৩, ২০১৯
ডিএন/এবি/এমএমইউ