ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

ব্যাংকিং

শহরের চেয়ে গ্রামে ব্যাংকের শাখা বেশি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪১৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৫, ২০১৭
শহরের চেয়ে গ্রামে ব্যাংকের শাখা বেশি

ঢাকা: শহর ও গ্রামীণ অর্থনীতি সমান্তরাল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে। গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামমুখী হয়েছে ব্যাংকের সেবা। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকও গ্রামে শাখা খুলছে।

সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপে সহায়তা করতে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শহর ও গ্রামে সমান হারে শাখা খোলার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে বিভাগ, জেলা, সিটি করপোরেশন ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এলাকাকে শহর এবং এর বাইরের শাখাগুলো গ্রামের শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ নির্দেশনার পর থেকেই বেসরকারি ব্যাংকগুলো শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ শাখা সম্প্রসারণে অধিক মনোযোগী হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে এখনও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে সরকারি ব্যাংকেরই গ্রামীণ শাখা বেশি। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে সর্বশেষ লাইসেন্স পাওয়া চতুর্থ প্রজেন্মর বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের ছয়মাসে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলো ৬৬টি নতুন শাখা খুলেছে। এরমধ্যে গ্রামাঞ্চলে খোল‍া হয়েছে ৩৫টি ও শহরে ৩১টি। দেশে বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চলতি বছরের জুন শেষে এসব ব্যাংকের মোট শাখার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭২০টি। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকের মোট শাখা ছিল ৯ হাজার ৬৫৪টি। এ হিসেবে গত ছয়মাসে ব্যাংকের শাখা বেড়েছে ৬৬টি। গ্রামীণ শাখা বেড়েছে ৩৫টি; আর শহর শাখা বেড়েছে ৩১টি।
 
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে গ্রামীণ শাখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০১টি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে গ্রামীণ শাখা ছিল ৫ হাজার ৪৬৬টি। অন্যদিকে ২০১৭ সালের জুন শেষে শহর শাখা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২১৯টি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৪ হাজার ১৮৮টি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭১৩টি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৩ হাজার ৭১০টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা ২ হাজার ৩৪১ এবং শহর শাখা ১ হাজার ৩৭২টি। এ হিসেবে গত ছয়মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের শাখা বেড়েছে মাত্র ৩টি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষায়িত ব্যাংকের কোনো শাখা বাড়েনি। চলতি বছরের জুন শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে ১১০টি শহরাঞ্চলে এবং ১ হাজার ২৯৭টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত।

অন্যদিকে চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি ব্যাংকের শাখা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২৯টি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকের মোট শাখার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৬৭। ছয়মাসে শাখা বেড়ে ৬২টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৬৬টি শহরাঞ্চলে এবং ১ হাজার ৮৬৩টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত।
 
২০১৭ সালে জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকের শাখা দাঁড়িয়েছে ৭১টি। এসব ব্যাংকের গ্রামাঞ্চলে কোনো শাখা নাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়েই ব্যাংকগুলোকে শহরের সমান অনুপাতে গ্রামে শাখা খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬০ ভাগের বেশি গ্রামে বাস করে। গ্রামের উন্নতি মানেই পুরো দেশের উন্নতি। তাই গ্রামের মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে ব্যাংকের শাখা স্থাপন, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৫, ২০১৭
এসই/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।