ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

‘আগে বালতি উলটে দেখাক পরে সরকার ফেলবে’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০২৩
‘আগে বালতি উলটে দেখাক পরে সরকার ফেলবে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে বিপুল জয় পেয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধীদের ভরাডুবির পরেও রাজ্যের সরকার ফেলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

 তাদের এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘আগে ওরা একটা বালতি উলটে দেখাক, তারপর সরকার উলটোতে আসবে তারা। ’

বিতর্কের সূত্রপাত শনিবার (১৫ জুলাই) রাতে।

দলীয় এক অনুষ্ঠানে শান্তনু ঠাকুর বলেছিলেন, যদি এরা ভোটচুরি এবং রাহাজানি না করত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আমরা যা ভোট পেয়েছি, তার থেকে দশগুণ ভোট বেশি পাওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল ভেবে নিয়েছে ওরা চিরস্থায়ী। কখনই ওরা চিরস্থায়ী নয়। এরপরই তার ভবিষ্যদ্বাণী, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে এদের সরকার পড়ে যাবে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলে যাচ্ছি। মিলিয়ে নেবেন।

এরপরই রোববার (১৬ জুলাই) তাকে সমর্থন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছিলেন, মমতার সরকার আর পাঁচ মাস থেকে ছয়মাস। যখন খুশি পড়ে যেতে পারে। রাজ্যের সরকার চলে বিধায়কদের সমর্থনে। দেখলেন, বিধায়করা হঠাৎ মনে করল আমরা আর এ সরকার সমর্থন করব না। আমরা অন্য কাউকে সমর্থন করব। বিধায়কদের তো মনে হতেই পারে। না হওয়ার তো কিছু নেই। আবার ধরুন, এমন গণআন্দোলন শুরু হলো যে বিধায়করা বললেন, আমরা আজ থেকে আর বিধায়ক পদে থাকব না। সরকার পড়ে যাবে। তার কথায়, রাজনীতিতে কোনো সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না।

এরপরই বুধবার (১৯ জুলাই) এসএসকেএম হাসপাতালে আহত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এই ইস্যুতে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে তিনি বলেছেন, ওদের বলুন আগে বালতি ফেলতে, তারপর সরকার উলটোতে আসবে। কাল থেকে তো ওরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ও মমতার নেতৃত্বে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী ২৬ দলের সফল বৈঠক হয়েছে। সেখানে সমমনস্ক বিরোধী জোট মঞ্চে ফের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী জোটের নাম হোক ‘ইন্ডিয়া ’(ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়ান্স)। মমতা বলেছেন, দেশটির নামেই নতুন মঞ্চে সমবেত হোক ২৬টি বিরোধী দল। মমতার এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় কংগ্রেস, আম আদমি পর্টি, শিবসেনাসহ সবকটি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল।

সেই বৈঠক সেরে কলকাতায় ফিরে বুধবার মমতার এ চ্যালেঞ্জ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। বুধবার ভোট সহিংসতায় দলের আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আহতদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাদের মিষ্টি ও হরলিক্স তুলে দেন। এছাড়া আহতদের হাতে ৫০ হাজার রুপি করে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেকও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সময়: ১০৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০২৩
ভিএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।