ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮ শাবান ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০২৩
‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ’

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেছেন, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ লিটারেসি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসরুমের বাইরেও অনেক কিছু শিখতে পারবে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিস-এর ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধন অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন৷

এ কিউ এম মাহবুব বলেন,  বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে৷ বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা অনেক মজবুত। একটি দেশের পুঁজিবাজার যতটা উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি ততটা ভালো। একটি ভালো পুঁজিবাজার ছাড়া ২০৪১ সালের উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেজন্য ডিএসইর আজকের এ আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নত বিশ্বে সবাই সবার সঙ্গে ব্যবসা করছে, যা থেকে ফিরে আসা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের মেগা প্রকল্পগুলো পুঁজিবাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। এতে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের অনেক উন্নতি হবে। যে দেশ যত বেশি উন্নত, সে দেশে তত বেশি বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। যার একটি বাংলাদেশ, কারণ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুবিধা দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশের জিডিপি যেমন বাড়বে, তেমনি মানুষের আয়ও বাড়বে‌। সুদৃঢ় অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ধরে রাখতে হবে। আর এজন্য ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও পুঁজিবাজার সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা খুবই জরুরি।

স্বাগত বক্তব্যে ফ্যাক্যালটি অব বিজনেজ স্ট্যাডিজ-এর ডিন ড. ইশিতা রায় বলেন, আজকের এ আয়োজন পুঁজিবাজার সম্পর্কে প্রাকটিক্যালভাবে জানার একটি বড় সুযোগ। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ও ছাত্র-ছাত্রীরা ডিএসইর এ অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুঁজিবাজার সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মাধ্যমে টেকনিক্যাল বিষয়ে জানতে পারবে। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট সম্পর্কে জানার অনেক বড় একটি সুযোগ। আজকের এ প্রোগামে যা জানা যাবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য যেমন কাজে আসবে, তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও কাজে আসবে বলে আমি মনে করি।  

কর্মশালায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ টি এম তারিকুজ্জামান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা বিএসইসি, ডিএসই ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আইওএসকোর কার্যক্রমের একটি অংশ‌। এতে আর্থিক বিনিয়োগের পরিবেশ ও সময় ইত্যাদি বিষয়ে জানা যায়৷ তাই আইওএসকোর সদস্য হিসেবে আমরা সারা দেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ দেশব্যাপী বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে ঝুঁকি এড়িয়ে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করে।  
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম বলেন, আজকের যে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি অনুষ্ঠান, তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নয়। এটা সবার জন্য আয়োজন করা হয়েছে। আজ এখানে যারা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন তারা হয়তো এখনো কোনো উপার্জনে নেই। কিন্তু আমরা আজ আপনাদের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ নিয়ে কিছু কথা বলবো। একজন মানুষ যা আয় করে, তা থেকে সব খরচের পরে যে বাড়তি অর্থ থাকে সেটাই বিনিয়োগ করে। এ বিনিয়োগের ফলে জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি তাতে আমরা কত শতাংশ সেভিংস করতে পারি তাতে অবদান রাখে। আগে আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন সেটা ছিল ১৩-১৪ শতাংশ। আর আজ সেটা ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।  

অর্থনৈতিক সব সূচকে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হবে। বুঝে-শুনে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। যারা অন্যের কথায় উৎসাহিত হয়ে বাজারে বিনিয়োগ করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তবেই স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বিজয়ের এ মহান মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যদের স্মরণ করে বলেন, একটি গতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য দরকার উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি, মানসম্পন্ন পণ্য, সুশাসন, দক্ষ জনশক্তি এবং শিক্ষিত ও সচেতন বিনিয়োগকারী৷ ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইক্যুইটির পাশাপাশি নতুন পণ্যভিত্তিক বৈচিত্র্যময় বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে৷ একইসঙ্গে আমাদের বিনিয়োগকারীদেরও বিনিয়োগ জ্ঞান বাড়াতে হবে এবং সচেতন হতে হবে৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এবং ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান তন্ময় বর্মন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ফাইন্যান্স ও বিজনেস বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমরা সবাই ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি সম্পর্কে কিছুটা অবগত আছি। তবে এ বিষয়টি প্রতিনিয়ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদি আমাদের পুঁজিবাজারের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রিউমার বা গুজব কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যেখানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মার্জিন ঋণ নিয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা। কারণ তাদের মধ্যে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির জ্ঞান খুবই কম, যে কারণে আমরা ১৯৯৬ ও ২০১০ এর মতো দুটি ঘটনা দেখেছি। ঘটনাগুলো হয়েছে শুধুমাত্র ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি সম্পর্কে না জানার কারণে। যে কারণে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরে পুঁজিবাজার কেন্দ্রিক একাডেমিক শিক্ষা সচেতনতামূলক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আল আমিন রহমান৷ মূল প্রবন্ধে তিনি পুঁজিবাজার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেনিং একাডেমি৷  

বাংলাদেশ সময়: ০১১৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০২৩ 
এসএমএকে/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।