ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯ মহররম ১৪৪৬

অর্থনীতি-ব্যবসা

পাওনা সাড়ে ৩ কোটি টাকা, বিপাকে সৈয়দপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০১০ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০২৪
পাওনা সাড়ে ৩ কোটি টাকা, বিপাকে সৈয়দপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা 

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে।  

দীর্ঘ ছয় বছরেও পরিশোধ করা হচ্ছে না এ টাকা।

ফলে এবারও চামড়া কেনা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ফলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা সস্তায় চামড়া কিনে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচারে করে দিতে পারেন।

সূত্র মতে, বিগত ১৩-১৪ বছর আগেও সৈয়দপুরের আড়ত থেকে ঈদের মৌসুমে ১০ কোটির বেশি টাকার চামড়া রপ্তানি হতো ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। কিন্তু গত সাত-আট বছর ধরে চামড়ার দরপতনের ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েন। অন্যদিকে ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা চামড়া কিনে ঠিকমতো টাকা পরিশোধ করছেন না। ফলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলেও সব পুঁজি রয়ে গেছে ট্যানারি মালিকদের কাছে। বছরের পর বছর বকেয়া টাকা তুলতে না পেরে অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দেন। এখন সৈয়দপুরে চামড়া ব্যবসার সঙ্গে হাতে গোনা ১০-১২ জন ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন।  

সৈয়দপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মো. সরফরাজ মুন্না জানান, এখন চামড়া ব্যবসায়ীরা ঈদে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে চামড়া কেনেন। ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ট্যানারি মালিকরা সৈয়দপুরের চামড়া ব্যবসায়ীদের সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি বকেয়া রেখেছেন। পুঁজি সংকটের কারণে এবারও চামড়া ব্যবসায়ীদের মাঝে চামড়া কেনা নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিশেষ করে ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করতে গেলে চামড়া ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। লবণ ও মজুরি খরচের কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারাতে হবে অনেককে।

সৈয়দপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুল হক বলেন, বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা আমাদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করছেন না। চলতি বছরের চামড়ার ২৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করেছেন তারা। ফলে আমরা স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণও দিচ্ছে না। সত্যিকারে ট্যানারি মালিকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। তাই এবার ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কোরবানিদাতারা জানান, গেল বছর বড় গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ছাগলের চামড়া অনেকে মাটিতে পুঁতে দেন। দাম কম থাকায় মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো সেভাবে সংগ্রহ করেনি। এবারও সেরকম পরিস্থিতি হবে বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র মতে, সৈয়দপুর শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কসংলগ্ন চামড়ার গুদাম নামে একটি মহল্লা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে চামড়া গুদামগুলো আর নেই। পাকিস্তান আমলে এটি দেশের উত্তরাঞ্চলে চামড়া ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখানে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরের ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে আসতেন।  

সৈয়দপুর আড়তের এসব চামড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে রেলপথে ভারতে রপ্তানি করা হতো। সে সময় চামড়ায় মুনাফা হওয়ায় এখানে চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছিল। স্বাধীনতার পর শিল্পটি লোকসানের মুখে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় আড়তটি। বর্তমানে সেই আড়তও  নেই। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কমেছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১০০৬ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০২৪

এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।