ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ কার্তিক ১৪৩১, ০১ নভেম্বর ২০২৪, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৬

অর্থনীতি-ব্যবসা

টানা হরতাল-অবরোধ

দাম কম পাইলেও লাভ হচ্ছে না

টি এম মামুন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৫
দাম কম পাইলেও লাভ হচ্ছে না ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বগুড়া: বিক্রেতা পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, বিক্রি করলেও লোকসান, না করলেও লোকসান। পরিস্থিতির কারণে বিক্রি করে লোকসানের মাত্রাটা কমানোই এখন মূল লক্ষ্য।

অপরদিকে, ক্রেতা পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, দাম কম পাইলেও লাভ হচ্ছে না আশানুরূপ। ঝুঁকিসহ অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামান্য লাভ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।  

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন বগুড়া-রংপুর সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান হাটে আসা পাইকারি ক্রেতা ও বিক্রেতারা তাদের ব্যবসার বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।

অভিক্ষ ব্যবসায়ী মাঝ বয়সি আওলাদ হোসেন এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে একদিন পর পরই বাড়ি ফিরতেন পাইকারি দরে সবজি কিনে। হরতাল-অবরোধে সবশেষ ১৮ দিন ধরে আটকা পড়েছেন। তিনি কাটিলাল জাতের আলু কিনেছেন ২৭০ টাকা, ডায়মন্ড (সাদা রং) ২২০ টাকা ও গ্যানোলা (হলুদ রং) ১৮০ টাকা মন দরে। এসব কিনে তার অনেকটা লাভ হয়েছে বলে সরলতার সঙ্গে স্বীকার করলেন এই ব্যবসায়ী। তবে পরক্ষণেই অভিযোগ অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া, কুলির (শ্রমিক) মজুরি ও পুলিশের খরচ বেড়ে যাওয়ার।

ময়মনসিংহ জেলা সদরের বাসিন্দা আওলাদ বলেন, পরিস্থিতি ভালো থাকাবস্থায় আগে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যেতে গাড়ি ভাড়াসহ খরচ পড়তো সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। এখন সেখানে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এর বড় একটি অংশ যায় গাড়ি বহরের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের পেছনে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধুমাত্র যমুনা সেতু পার করে দিতেই ৬ থেকে ৭টি পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য পুলিশ সদস্যদের দিতে হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

গাজীপুর থেকে এসেছেন পাইকারি ব্যবসায়ী শাহাজ উদ্দিন, বারেক ও ইসলাম। ৩৪০ টাকা মন দরে তারা কিনেছেন রুমানা পাক্রী জাতের আলু। তারা বলেন, শুধুমাত্র অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া ও পুলিশ খরচের জন্য কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

পুলিশ খরচের কথাটি লিখতে নিষেধ করার শর্তে ফুলকপি ক্রেতা চট্টগ্রামের বাজারে ব্যবসা করা স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী ছাবেদ আলী ও শাজাহান আলী বলেন, ৬০ বা ৭০ টাকা মন দরে ফুলকপি কিনে কী লাভ। আগে বগুড়া থেকে চট্টগ্রামের ট্রাক ভাড়া ছিল সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। এখন সেখানে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া লাগছে।

ঢাকা থেকে আসা শিম ও টমাটোর পাইকারি ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, বীরেশ্বর ও সরেন বলেন, ট্রাক ভাড়া আর পুলিশ খরচই খাইলো। না হলে যে দামে জিনিস পাইছি, বহুত লাভ করতে পারতাম।

তিনি বলেন, এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ট্রাক ভাড়া যেমন বেশি, পুলিশের অত্যচারও তার থেকে কম নয়। আবার পেট্রোল বোমার আগুনে ট্রাক চালক ও নিজের জীবনের যেমন ঝুঁকি আছে, তেমনি আছে গাড়িতে থাকা মালেরও।    

বাংলাদেশ সময়: ১২০৫ ঘণ্টা,  ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।