ঢাকা, শনিবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ০৩ জুন ২০২৩, ১৪ জিলকদ ১৪৪৪

শিক্ষা

রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে পরীক্ষার সুযোগ চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৬ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে পরীক্ষার সুযোগ চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ঢাকা: রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থার সুযোগ করে দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অসংখ্য শিক্ষার্থী। বিশেষ করে ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রি (পাস কোর্স) ও স্নাতকের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে জোর দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে তারা এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ও বক্তব্য দেন রাজধানীর কাকরাইলের হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের ডিগ্রি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সারোয়ার, টাংগাইলের সালাউদ্দিন সিদ্দীকি মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রী ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুজন, খুলনার কয়রার খান সাহেব কোমর উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের ২০১৫-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমিরুল ইসলাম এবং কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গৌরিপুর ডিগ্রী কলেজের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমা আক্তার। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, রেজিট্রেশন নবায়নের মাধ্যমে আমাদের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হোক। আমরা ডিগ্রি ও অনার্সধারী শিক্ষার্থীরা আজ এক করুণ মানসিক চাপে দিন পার করছি। আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক বিষাদময় যন্ত্রণায়। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, আমরা ২০১৯ সালে শুরু হওয়া করোনায়, আমাদের আত্মীয় স্বজন এবং আপনজনকে হারিয়েছি। আমাদের আর্থিক ও মানসিক অবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এমন বিশাল মানব বিপর্যয়কারী মহামারির আঘাতে আমরা পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। ফলে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও উত্তীর্ণ হতে পারিনি।

করোনাভাইরাস মহামারিতে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্যদের সিলেবাস শর্ট করে দিয়েছে। আবার যারা অনার্স ও ডিগ্রি নতুন ভর্তি হয়েছে তাদেরও অটোপাশ দিয়েছে। কিন্তু আমরা যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ের কোর্সে এফ গ্রেড বা অনুপস্থিত আছে এবং যাদের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ করোনার পরপরই শেষ হয়ে গেল, তাদের আর কোনো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ কারণে আমরা এত বছর পড়াশোনা করেও অনার্স ও ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমাদের কেন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না? শিক্ষা আমার অধিকার, তাহলে আমরা কেন আর কোনো সুযোগ পাব না?

এ সময় শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ কমপক্ষে ২ বছর বৃদ্ধি করে পরীক্ষার সুযোগ; বারবার ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও অনেকের ফেল আসে, বোর্ড চ্যালেঞ্জ করলেও ফলাফলের কোনো পরিবর্তন আসে না, এর সুষ্ঠু প্রতিকার; প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যে ক্রেডিট অর্জন হয়েছে সেটা সিজিপিএ উল্লেখসহ সার্টিফিকেট প্রদান; সাত কলেজকে জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হয়েছিল, সে সুযোগ দিয়ে তাদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া; এবং পরীক্ষা নিতে যে টাকা ব্যয় হবে তার সমস্ত টাকা শিক্ষার্থীরা বহন করবে, তবুও যেন তাদের সুযোগ দেওয়া হয়।

বার বার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেও কোনো কাজ হয়নি দাবি করে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন নবায়নের মাধ্যমে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে আমাদের সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে যেন দেশের সেবা করতে পারি সেই ব্যবস্থা করে দিন। আমরা বেশি কিছু চাই না, আমরা এই দেশের নাগরিক, তাই আমাদের সবার আকুল আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৮ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
এইচএমএস/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa