ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

শিক্ষা

নিয়মের তোয়াক্কা নেই ঢাবির সুইমিংপুলে

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
নিয়মের তোয়াক্কা নেই ঢাবির সুইমিংপুলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুইমিংপুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন থেকে চলা এ অনিয়ম নিরসনে সংশ্লিষ্টদের কোনো ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায়নি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সোহাদ হক সুইমিংপুলের পানিতে নেমে মারা যান। তার মৃত্যুর পর সুইমিংপুলে অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সূত্রে জানায়, সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য সকাল ১০টা থেকে ১১টা এবং ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুটি সময় বরাদ্দ থাকে। এ সময় কোচরা শিক্ষার্থীসহ ভর্তি হওয়া বহিরাগতদের সাঁতার শেখান। তবে ২০১৯ সালে ডাকসুর দরখাস্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার দল ও শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টার পর থেকে সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ সময় কোনো সাঁতার কোচ থাকেন না। তবে সংশ্লিষ্টরা লাইফগার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।

সুইমিংপুলের ফটকে নিয়ম সংবলিত দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলে নামার আগে গোসল করা, সুইমিং কস্টিউম পরা, কফ-থুথু না ফেলা, ধূমপান না করা, কোচ বা অভিজ্ঞ সাহায্যকারী ছাড়া সাঁতারে না নামা, টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করা, পুলে ডাইব বা লাফ না দেওয়া, লাইফ গার্ডদের নির্দেশনা মানাসহ একাধিক নির্দেশনা রয়েছে।

তবে সুইমিংপুলের একাধিক লাইফগার্ড ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে।

সুইমিংপুলে দায়িত্বরত কর্মচারী মোস্তাফিজ বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের লাফ দেওয়া, গোসল ছাড়া পুলে নামা, ভারী পোশাক পরে সাঁতার কাটা নিষেধ—তারা এসবের নিয়ম মানেন না। আমাদের এখানে হ্যান্ডমাইক নিয়ে একজন এবং বাকিরা বাঁশি দিয়ে সাবধান করেন। কিন্তু কেউ কথা শোনে না। আমাদের ধমক দেয়।

সুইমিংপুলের গেটের নিরাপত্তাপ্রহরী ইলিয়াছ বাংলানিউজকে বলেন, গেটে কার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থীরা এসব কিছুই করে না। অনেকে হলের টিশার্ট দেখিয়ে প্রবেশ করে। ৩০-৪০ জন নিয়ে আসে। আমাদের কিছু করার থাকে না। কেউ কেউ বহিরাগত নিয়ে আসে।

আরেক কর্মচারী আহমদ আলী বাংলানিউজকে জানান, একদিকে নিষেধ করলে আরেকদিকে লাফ দেয়। কেউ কথা শোনে না।

গত পাঁচ বছর ধরেই এভাবে অনিয়ম চললেও প্রক্টর অফিস বরাবর কোনো অভিযোগ দেননি সুইমিংপুলের দায়িত্বরতরা। ফলে দীর্ঘসময় ধরে চললেও এসবের কোনো সমাধান হয়নি। সুইমিংপুলের সার্বিক বিষয় দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহজাহান আলী। সেখানে শিফট অনুযায়ী কয়জন লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকেন, পুরো সুইমিংপুলের দায়িত্বে মোট কতজন কর্মচারী রয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী অতিরিক্ত হয় বলে আমাদের অনেক কর্মচারীই তখন লাইফগার্ড হয়ে কাজ করেন।

সুইমিংপুল দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোষাধ্যক্ষ ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। সম্প্রতি এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাকসুদুর রহমানকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও নিয়ম বাস্তবায়নে এ কমিটির কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এরমধ্যেই সোহাদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

প্রক্টর মাকসুদুর রহমান জানান, সুইমিংপুলে নিয়ম ভঙ্গ করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ঢুকে পড়ে। নির্দিষ্ট শিফটের পর অতিরিক্ত সময় থাকে। তবে অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ করা হয়নি।  

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে দায়িত্বরতদের এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ নেই। দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থীরা এমন দেখছেন। ফলে নিজেরাও অভ্যস্ত হয়েছেন অনিয়মেই।

মাস্টারদা সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, আমার কার্ড ছিল না। সামনের একজন পে-ইন স্লিপ দেখানোর পর আমরা প্রবেশ করেছি। কেউ বাধা দেয়নি।

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, সবাই গিয়ে দেখে একটু জোরাজুরি করলেই ভেতরে যাওয়া যায়। যে সাঁতার জানে না, সেও প্রবেশ করে।

এসব অনিয়ম ঠিক করার আগ পর্যন্ত সুইমিংপুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাকসুদুর রহমান।  

তিনি বলেন, আমরা সব নিয়ম ঠিক করে আবার সুইমিং চালু করব। তার আগে পুল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং সুইমিংপুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমি দেশের বাইরে রয়েছি, তবুও সার্বিক অবস্থা জানার জন্য আজ বাংলাদেশ সময় ৫টায় আমরা একটি মিটিং করেছি। সুইমিংপুলে শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রবেশ করছেন, এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আমরা পুলের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ পাই না। একটা স্থানের যে ধারণ ক্ষমতা, তা পেরিয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ওখানে শিক্ষার্থীরা ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রবেশ করে। কর্মচারীরাও আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমরা এটিকে কীভাবে নিয়মের মধ্যে ব্যবহার করা যায়, তা দেখব।

বাংলাদেশ সময়: ১২১০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
welcome-ad