ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

ভারত

কলকাতায় জমেনি বাংলাদেশ বইমেলা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৩১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩
কলকাতায় জমেনি বাংলাদেশ বইমেলা

কলকাতা: কলকাতা বইমেলার পর পশ্চিমবঙ্গের পাঠকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শহরে আয়োজন করা বাংলাদেশ বইমেলা। কিন্তু, বিগত বছরের মতো এবার সেভাবে জমেনি ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা।

প্রকাশকদের অভিমত, এবার ভালোভাবে প্রচার হয়নি। এ কারণে বিগত বছরগুলোর মতো জমে ওঠেনি এবারের বাংলাদেশ বইমেলা।

পাঠকদের অভিমত, শহরে বই পড়ার প্রবণতা অনেক কমেছে। মানুষ এখন অনলাইনে মজে থাকতে ব্যস্ত। যার কারণে দুই মলাটের বই থেকে অনেকটাই বিমুখ।

তবে আয়োজকরা নেট দুনিয়াকে গুরুত্ব দিলেও, প্রচার হয়নি এমনটা মানতে নারাজ। তাদের অভিমত, সব বার যে সমান যাবে, এটা ঠিক নয়। তাছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলা লাভের কথা মাথায় রেখে করা হয় না। শহরের পাঠকদের সাথে বাংলাদেশি লেখকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটাই বইমেলার মূল উদ্দেশ্য।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) শেষ হলো কলকাতায় অনুষ্ঠিত ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কলকাতার বইপাড়ায় অনুষ্ঠিত হলো এই বইমেলা। গতবার এই বইমেলায় উপচে পড়েছিল শহরবাসী। সেবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বিক্রি হওয়ায় খুশি ছিলেন প্রকাশক থেকে আয়োজকরা। তবে এ বছর পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। অনেক প্রকাশক জানালেন, যা বই বাংলাদেশ থেকে বয়ে নিয়ে এসেছিলাম, তার ৭০ শতাংশ ফেরত নিয়ে যেতে হবে।

দিব্য প্রকাশনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অভিমত, প্রচারের অভাবে এবারে আমার বই বিক্রি হয়নি। আশা করব, আগামী বছর আয়োজকরা প্রচারের বিষয়টা মাথায় রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, কলকাতার বহু পাঠক আমাকে বলেছেন, তারা জানতেনই না বাংলাদেশ বইমেলা হচ্ছে। কলেজ স্কয়ার অঞ্চলে এসে ওনারা জানতে পেরেছেন মেলা হচ্ছে। দিব্য প্রকশানীর মাত্র ৩০ শতাংশ বই বিক্রি হয়েছে।

তার অভিমত, এবারে মেলায় যে কজন এসেছেন তারা লোকমুখের প্রচারে এসেছেন। সঠিক কায়দায় প্রচার হলে বই ফেরত নিয়ে যেতে হতো না। গতবার বই দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারিনি।

অন্য প্রকাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ত্রিদিব শর্মা বলেন, বিক্রির বিষয়ে এবারে ভালো বলব না, মোটামুটি হয়েছে। বইমেলায় এবারে ভিড় না হওয়ার বিষয় তিনি শহরের বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন। ছুটির দিনগুলোয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির কারণে বই বিক্রি ভালো হয়নি বলেই তিনি মনে করছেন। একইসাথে তিনিও মনে করেন, প্রচারনায় ক্ষামতি ছিল। যে কারণে গতবারের তুলনায় পাঠক অনেকটাই কম ছিল। তার প্রকাশনায় বেশি কেটেছে হুমাযূন আহমেদ এবং সাদাত হোসাইনের বই।

অপরদিকে, যেসব পাঠক শেষ দিনেও ঘুরে ঘুরে বই কিনলেন তারা বইমেলায় ভিড় না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই দায়ী করলেন। তাদের অভিমত, শহরবাসী রিয়েল জ্ঞানের থেকে রিল থেকে জ্ঞান লাভে আগ্রহী হয়ে পড়ছে। মাথা খাটানোর থেকে মগজে ভরছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম। যে কারণে শহরের বিভিন্ন বইমেলায় ভিড় কম দেখা যাচ্ছে।

আবার একাংশর অভিমত, ভিড় ভাগ হয়ে যাচ্ছে অন্যান্য বইমেলার সাথে। এই মৌসুমে কলকাতা বইমেলা বাদ দিলে বঙ্গে জেলাভিত্তিক ছোট ছোট বহু বইমেলা হয়ে থাকে। সেখানেও কমবেশি ভারতীয় বইয়ের ভিড়ে প্রায় সমানতালে থাকে বাংলাদেশি লেখকদের বই। ফলে শহরতলীর বাসিন্দারা এ বিষয়ে কিছুটা কলকাতা বিমুখ।

বইমেলায় আসা শ্রেষ্ঠা সরকার বলেন, বন্ধুদের সাথে চলে এলাম দেখতে। তবে এখন কিছু কিনব না। সামনেই কলাকাতা বইমেলা। তখন একবার বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন দেখব। কেনার মতো থাকলে অবশ্যই কিনব। এছাড়া আমার এলাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুর। সেখানেও বইমেলা বসবে। ওখানেও মেলে বাংলাদেশের বই৷ তাই কলেজ স্ট্রিটে বাংলাদেশ বইমেলা নিয়ে আমার যে খুব বড়তি আগ্রহ আছে, তা নয়।

রিয়া দাস জানান, জেলাভিত্তিক বইমেলা পাঠককের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবাসী যেটুকু আগ্রহ সঞ্চয় করে রাখছে, তা কলকাতা বইমেলার জন্য। আর বাংলাদেশ বইমেলা কবে, কখন কোথায় হয় তা আগেভাগে জানতে পারি না। কলেজ স্ট্রিট বই কিনতে এসেছিলাম। দেখলাম বাংলাদেশ বইমেলা হচ্ছে। তাও আজই শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগে জানলে প্রস্তুতি নিয়ে আসতাম।

তবে আয়োজকরা বলছেন, প্রচারে কোনো খামতি ছিল না। তবে সব বছর সমান যাবে, তা কোনো ব্যবসায় হয় না। তবে বাংলাদেশ বইমেলা মুনাফা লাভের আশায় কলকাতায় করা হয় না। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি লেখক পরিচিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ দুতাবাসের শিক্ষা এবং ক্রীড়া বিভাগের প্রথম সচিব রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টা ফান করেই বলছি, অন্য মানে ধরবেন না। আমার অনেক ব্যবসায়ী বন্ধু আছে। তাদের যখন জিজ্ঞেস করি ব্যবসা কেমন চলছে। সবারই একটাই বাণী—ভালো না দোস্ত, মোটামুটি। প্রকাশনাটাও একটা ব্যবসা। তাই নয় কি?

১১তম বাংলাদেশ বইমেলায় ৬৫টি বাংলাদেশি প্রকাশনা অংশ নিয়েছিল। মেলা শুরু হয়েছিল ৪ ডিসেম্বর। কলকাতার কলেজ স্কয়ারে বাংলাদেশ বইমেলার উদ্বোধন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মফিদুল হক, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী, নাট্য ব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসুসহ বিশিষ্টরা। বুধবার বইমেলার সমাপনীতেও উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার বিশিষ্টজনরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি মঞ্চস্থ করেন কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাদেকুল করিম, দেবাদ্রিতা, আতাউর রহমান, রাবেয়া রহমান, অনন্যা, নাসরিন নাজমা, চৌধুরীসহ বাংলাদেশ থেকে আগতরা।

বাংলাদেশ সময়: ০০২৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩
ভিএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
welcome-ad