ঢাকা, রবিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ মে ২০২৪, ১০ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

শিগগিরই ত্রিপুরায় চালু হচ্ছে চায়ের ই-নিলাম কেন্দ্র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪
শিগগিরই ত্রিপুরায় চালু হচ্ছে চায়ের ই-নিলাম কেন্দ্র

আগরতলা (ত্রিপুরা): শিগগিরই ত্রিপুরা রাজ্যে চালু হচ্ছে চায়ের ই-নিলাম কেন্দ্র। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সমীর রঞ্জন ঘোষ।

এ সময় ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মানিক লাল দাস উপস্থিত ছিলেন।  

সমীর রঞ্জন বলেন, এ নিলাম কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকে ক্রেতারা অনলাইনের মাধ্যমে নিলামে অংশ নিতে পারবেন। এর ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন ত্রিপুরা রাজ্যের চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা।

তিনি বলেন, রাজ্যের চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। চায়ের নিলাম করার জন্য গাড়িতে করে গৌহাটি অথবা কলকাতা নিয়ে যেতে হতো। কিন্তু এখন রাজ্যে নিলাম কেন্দ্র হয়ে গেলে যে পরিমাণ চা বিক্রি হবে সেই পরিমাণ চা সহজেই বহিঃরাজ্য অথবা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

এ প্রক্রিয়া কেন্দ্র চালু করার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সমীর রঞ্জন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহাকে ধন্যবাদ জানান। কারণ এ অনুমোদন পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যার ফলস্বরূপ রাজ্যে একটি ই-নিলাম কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। নীতি আয়োগের মাধ্যমে রাজ্যে চা নিলাম কেন্দ্র গড়ে তোলার সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। এর জন্য সমীর রঞ্জন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিগমের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

ভারতের ছয়টি জায়গায় চায়ের নিলাম কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুটি দক্ষিণ ভারতে, তিনটি পশ্চিমবঙ্গে ও একটি আসামে। পাশাপাশি রাজ্যে প্রক্রিয়াজাত চা মজুদ করার জন্য বিশেষ গুদাম তৈরি করা হবে। রাজধানী আগরতলার পার্শ্ববর্তী দুর্গাবাড়ি এলাকার চা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে এ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘ বছরের ইতিহাস রয়েছে রাজ্যের চা শিল্পের। প্রায় ১০৮ বছরের পুরাতন রাজ্যের চা শিল্প। কিন্তু পূর্বতন সরকারের সময় দীর্ঘ বছর উপেক্ষিত ছিল এ শিল্প। ফলে এ শিল্পের বিকাশ ঘটেনি দীর্ঘ বছর। অবশেষে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে চায়ের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।  

এ সরকার চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য লোগো ডিজাইন করেছে, চা শ্রমিকদের জন্য জমির বন্দোবস্ত করেছে, রেশন দোকানের মাধ্যমে চা দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। শুধুমাত্র রেশন দোকানের মাধ্যমে গত বছর তিন লাখ কেজির বেশি চা বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী দিনের লক্ষ্য হচ্ছে চায়ের উৎপাদন আরও বাড়ানো। সেই সঙ্গে গুণগতমান উন্নয়ন করা।  

সমীর রঞ্জন বলেন, সারা দেশের মধ্যে রাজ্য চা উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। দেশের উৎপাদিত চায়ের প্রায় ১০ শতাংশ এ রাজ্যে উৎপাদন হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪
এসসিএন/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।