ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

চলতি বছরে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ার স্থাপিত হতে পারে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৮ ঘণ্টা, মার্চ ৭, ২০২৪
চলতি বছরে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ার স্থাপিত হতে পারে

কলকাতা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের ৫৩ বছর পূর্তি যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন।

দিবসটিতে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ার সংরক্ষণের বিষয়ে ডেপুটি হাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে।

আমরা এ নিয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে গেছি। মাঝে কিছুটা সময় এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পদ নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আমি নিজেও একজন আমলা হয়ে বুঝি, দুটি দেশের মধ্যে কিছুটা আমলাতন্ত্রের কাজের ফলে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শিথিল হয়ে গেছে এমনটা নয়।

তিনি আরও বলেছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কিছু তথ্য আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি। খরচ কেমন হতে পারে, কারা খরচটা দেবে, কি ধরনের অধ্যাপনা হবে, কোন বিষয়গুলো গবেষণা ইত্যাদি এসবগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা চলছে। আমি খুবই আশাবাদী, দুই পক্ষের টেকনিক্যাল বিষয়গুলি মিটিয়ে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি চেয়ার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমরা চেষ্টা করছি যাতে চলতি বছরেই কাজটা শেষ করতে পারি।

এর আগে দিবসটির শুরুতে মিশন প্রাঙ্গণে, মর্যাদার সহিত জাতীয় সংগীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডেপুটি হাইকমিশনার। এরপর মিশন প্রাঙ্গণে মুজিব চিরঞ্জীবী নামে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মিশনের কর্মকর্তা।  

পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা।

দিবসটির গুরুত্ব ডেপুটি হাই কমিশনার বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত গুরুত্বপূর্ণ এবং মনের কাছের ভাষণ এটি একটি। যে ভাষণ পুরো জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল, এই ভাষণের মধ্যদিয়ে জাতি স্বাধীনতার পথ বেছে নিয়ে বাধ্য হয়েছিল। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ৭ মার্চ। যে কারণে শুধু আমরা নয়, বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা ভাষণের মধ্যে পড়ে বলে জাতিসংঘ ইউনেস্কো এর স্বীকৃতি দিয়েছে।  

তিনি বলেন, এর অন্যতম কারণ বিশ্বের যত ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, কোনো স্ক্রিপটেড নয়। যেটি তাৎক্ষণিকভাবে তখন তিনি বলেছিলেন। কারণ এটা তার অন্তর থেকে এসেছিল। বঙ্গবন্ধু যেটা বিশ্বাস করতেন, সেটাই তার জনগণকে বলেছেন, জনগণকে তিনি এর মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সেটিকে আমরা অক্ষর অক্ষরে পালন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিকেলে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে শহরের বিভিন্ন বাঙালিরা এসে জড়ো হবেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে ভাষণের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি, দিনটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী যে বাণী প্রদান করেছে সেই বাণী পড়ে শোনানো এবং তারপর একটি আলোচনা সভা করা হয়।  

সে আলোচনা সভায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননাপ্রাপ্ত অধ্যাপক গবেষক ডক্টর পবিত্র সরকার। পাশাপাশি থাকছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর ইমাম কল্যাণ লাহিড়ীসহ বিশিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩১ ঘণ্টা, মার্চ ৭, ২০২৪
ভিএস/এসএএইচ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।