ঢাকা, বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

ভারতে ৪ রাজ্যে বিজেপি, আপ ১, খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০২২
ভারতে ৪ রাজ্যে বিজেপি, আপ ১, খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস

কলকাতা: ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের গণনা শেষ হয়েছে। এই রাজ্যগুলির ফলাফলের প্রভাব ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে পড়বে।

সে কারণেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে এবারের নির্বাচন।  

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ৪০৩ কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২৭৩টি, রাজ্যে বিরোধী শক্তি সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ১২৫টি, কংগ্রেসের ঝুলিতে মাত্র দুইটি। বাকিরা সম্মলিতভাবে পেয়েছে তিন আসন। একইভাবে উত্তরাখণ্ডে ৭০ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৭, বিরোধী কংগ্রেস ১৯ আসন। মণিপুর মোট ৬০ আসনে বিজেপি ৩২, কংগ্রেস ৪টি।

অপরদিকে পাঞ্জাবে এলো পরিবর্তন। ১১৭ আসনের পাঞ্জাব বিধানসভা একবারে ধরাশায়ী কংগ্রেস। ৯২ আসন পেয়েছে কেজরীওয়ালের দল আমআদমি পার্টি (আপ)। এই প্রথম দিল্লির সঙ্গে পাঞ্জাব রাজ্যেও ক্ষমতা পেলো আপ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতের তৃণমুল-সহ যত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল আছে, তারমধ্যে এই প্রথম আঞ্চলিক দল হিসেবে আপ-ই এই কারিশমা করে দেখালো।

মূলত, পাঞ্জাবে আপ তুলে এনেছে দিল্লি মডেল। যেমন, গরীব-মধ্যবিত্তদের বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ বিলে আমুল পরিবর্তন, মহিলাদের জন্য বাড়তি সরকারি ছাড় এবং নিরাপত্তা। এছাড়া কেজরিওয়ালকে সামনে পেয়ে জয়শ্রীরাম ধ্বনি হাসিমুখে গ্রহণ করে তাদের নমস্কার বা করমর্দন করে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিজের কায়দায় এড়িয়ে গেছে আপ। অর্থাৎ কোনোভাবেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মাথাচাড়া দিতে না দেওয়া। এমনকি পাঞ্জাবে প্রচারে ভারতের শাসক দলকে কটু ভাষায় আক্রমণ না করে আপ কি কি করেছে এবং করতে পারে তাই তুলে ধরার ফলে পাঞ্জাব শাসনের দায়িত্ব পেলো কেজরীওয়ালের দল আম আদমি পার্টি।

অপরদিকে, গোয়া রাজ্যটিও বিজেপির দখলে। রাজ্যটিতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। গোয়ায় চরম প্রচার চালিয়েও ক্ষমতার স্বাদ পেল না মমতার দল। ক্ষমতা তো দুরঅস্ত, ৪০ আসনের মধ্যে একটিও পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ গোয়ার প্রচারে কোনো খামতি রাখেনি দলটি। টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ, প্রবীণ মডেল নাফিসা আলি, সেখানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী-সহ বহু তারকা নাম লিখেয়েছিল মমতার দলে। ২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভোটের পর গোয়া বিধানসভা ভোটে দায়িত্বে ছিলেন দলটির সর্বদলীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেও কিছুই ফল এল না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কারণে এই পরিণাম। ধর্মীয় উস্কানিতে মমতার উত্তেজিত হওয়া, শাসক দলেরর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ এবং বাংলার মতো নারীদের লক্ষ্মীর ভান্ডারসহ আরও কয়েকটি ভুর্তকি প্রকল্প ভালোভাবে নেয়নি গোয়াবাসী। খেলা হবে স্লোগানও ওখানে কাজে আসেনি। বাংলা গ্রহণ করলেও বাংলার মডেল গোয়া গ্রহণ করেনি।

এর অন্য কারণ ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা ভোটে যেসব ভুর্তকি প্রকল্পকে ইস্যু করেছিলেন মমতা, তা সরকারে এসে চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু, বাস্তবে তা চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অর্থাৎ সেসব ভর্তুকি প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ করতে বারেবারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাংলার শাসক দলকে। সেই সব সমস্যার কথা, স্বয়ং মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রকাশ্যে বলেছেন। যার ফুটেজ গোয়ায় তুলে ধরেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে এসব কারণে গোয়ায় ক্ষমতায় পেল না বাংলার শাসক দল, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিশেজ্ঞদের একাংশের মতে, বহুকাল ধরে হিন্দি ও বাংলা বলয়ের একটা দুরত্ব আছে। এত সহজে তার নিষ্পত্তি ঘটবে না। দুর থেকে লিডারদের পছন্দ করলেও এত সহজে নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারে না উভয় বলয়। যে কারণে বাংলাতেও হিন্দি বলয়ের রাজনীতি খুব একটা সক্রিয় নয়। সেকারণেই বিজেপি বাংলায় আসতে পারেনি। যদি এই কারণ বাস্তব হয় তাহলে আগামীতে জাতীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা হতে পারে মমতার দল।

২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে যেমন বিজেপি অনেকটাই অক্সিজেন পেলো, তেমন নীতি পরিবর্তন করতে হবে মমতার দলকে। কারণ, লোকসভা ভোটে মমতা অন্যতম প্রধানমন্ত্রী দাবিদার। তবে এই ভোট প্রমাণ করছে যে, মোদী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মমতাকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো এগোলেও, ঠিক সময়ে মমতার সঙ্গে কেউ থাকলো না। ফলে ২০২৪ এ মোদীকে হঠাতে কি নীতি নেয় মমতাসহ বিরোধীরা এখন সেটাই দেখার।

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০২১
ভিএস/এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।