ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

আত্মহত্যার হুমকি ত্রিপুরার চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০৮ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০২২
আত্মহত্যার হুমকি ত্রিপুরার চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের

আগরতলা (ত্রিপুরা, ভারত): নিজেদের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন আরও তীব্রতর করছেন ত্রিপুরার চাকরিচ্যুত ১০ হাজার ৩২৩ শিক্ষকের একাংশ। সরকার চাকরি ফিরিয়ে না দিলে গণ আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তারা।

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার (১৪ মার্চ) মহাকরণ অভিযান করে শিক্ষকদের একাংশ। এদিন দুপুরে তারা রাজধানীর রাস্তাবল ময়দান থেকে মিছিল নিয়ে মহাকরণের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিন্তু পুলিশ তাদের মাঠ থেকে বের হতে বাধা দেয়। তখন তারা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

এভাবে রাজধানীর ভিআইপি রোডে একাধিক জায়গায় পুলিশের বাধা ভেঙে তারা মহাকরণের দিকে এগিয়ে যান। তখন কুঞ্জবন এলাকার গান্ধী মূর্তির সামনে পুলিশের প্রবল বাধার সম্মুখীন হন। তারা বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এমনকি পুরুষ পুলিশ বর্বরোচিত ভাবে শিক্ষিকাদের ওপরও আক্রমণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় পুলিশি হামলায় প্রায় ১০ শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত হন। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভিআইপি রোডে বসে পড়েন। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের বক্তব্য দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা চাকরিচ্যুত অবস্থায় আছেন। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এভাবে চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়া এখন পর্যন্ত ১৩৭ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

তারা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে বারবার আহ্বান জানানোর পরও তিনি শিক্ষকদেরকে আলোচনার টেবিলে ডাকছেন না। রাজ্য সরকার চাইলে তাদেরকে আবার চাকরিতে নিযুক্ত করতে পারে। সরকার তাদের আবেদনের সাড়া দিচ্ছেন না তাই তারা বাধ্য হয়ে মহাকরণ অভিযান করছেন।

চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংগঠন জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটির নেতা বিজয় কৃষ্ণ দাস বলেন, তাদের পুনরায় চাকরিতে নিয়োগ এবং যেসব শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবার থেকে ন্যূনতম একজনকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এই দুই দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। রাজ্য সরকার যদি দাবি না মানে তাহলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যা করবেন তারা। আর এ জন্য দায়ী থাকবে রাজ্য সরকার।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৮ ঘণ্টা, ১৪ মার্চ, ২০২২
এসসিএন/এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।