ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

শিল্প

ডিজিটালাইজড হচ্ছে পোশাক শিল্প

শরিফুল ইসলাম জুয়েল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৭ ঘণ্টা, নভেম্বর ১০, ২০১৭
ডিজিটালাইজড হচ্ছে পোশাক শিল্প ডিজিটালাইজড হচ্ছে পোশাক শিল্প- ছবি: কাশেম হারুন

ঢাকা: রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলছে তিনদিন ব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শো’।

আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পের পরিচয় ও অফিস শিল্পের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এ ট্রেড শো’তে পোশাক শিল্পের বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ, আক্সেসোরিস, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত সয়ংক্রিয় মেশিন, বিভিন্ন অফিস সরঞ্জামাদির প্রদর্শনী চলছে।
 
ট্রেড শো’তে অংশগ্রহনকারী স্টল মালিকদের দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।


 
তবে বিশ্ব এখন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটে চলছে। তাদের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে পোশাক শিল্প খাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিকায়নের বিকল্প দেখছেন না তারা। আর এজন্যই দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে বলে মনে করেন এসকল উদ্যোক্তারা।
 ট্রেড শো’তে চিজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের স্টল- ছবি: কাশেম হারুনশুক্রবার (১০ নভেম্বর) ট্রেড শো’তে বাংলানিউজের কথা হয় এমন কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তার সঙ্গে। যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতকে আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সফলও হয়েছেন অনেকাংশে।
 
তাদেরই একজন চিজিং বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জালাল উদ্দিন তুহিন। তিনি এই ট্রেড শো’তে চিন থেকে আমদানিকৃত কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় সোয়েটার মেশিন নিয়ে এসেছেন।
 
তুহিন বাংলানিউজকে বলেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পোশাক শিল্প খাত। ডিজিটালাইজড হচ্ছে প্রতিটি কারখানা। তিনি বলেন, আমি মনে করি ৫/৬ বছর নয় আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে নেয়ামকগুলো কাজ করবে টেক্সটাইল মেশিন তার মধ্যে অন্যতম। আমরা বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় সোয়েটার মেশিন সাপ্লাই করা শুরু করেছি। এখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের ১০ হাজার মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোয়েটার তৈরি করবে। আপনি কম্পিউটারে কমান্ড দিলে আপনার আর কোনো কাজ নেই। আর এটা অপারেট করাও সহজ। আমরা ক্রেতাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেই।
 ট্রেড শো’তে চিজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের স্টলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক- ছবি: কাশেম হারুন তুহিন আরো বলেন, একসময়ে আমাদের কারখানাগুলোতে হাতে চালিত মেশিনে কাজ করা হতো। তখন উৎপাদন হতো পিস রেটের ভিত্তিতে। আপনি যত পিস উৎপাদন করবেন তখনকার মার্কেট রেটে তত টাকা পাবেন। এতে কখনো কখনো একজন শ্রমিক একমাস কাজ করে ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকা পেতেন। এতে মালিকের সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য লেগে যেতো। আর এসব কারখানায় ঘামের দুর্গন্ধে ভেতরে প্রবেশ করা যেতো না। কিন্তু এখন নিটিং ফ্লোরগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, এতো সুন্দর পরিবেশ না দেখলে বোঝার উপায় নেই। কোনো ডাস্ট নেই, শুধুমাত্র মেশিনের কারনে। চায়না যেখানে ২০ বছরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ সেখানে যেতে ৭ বছর সময় লাগবে। কারণ আমাদের কারখানাগুলো এখন ডিজিটালাইজড হচ্ছে।
 
ট্রেড শো’র আয়োজক প্রতিষ্ঠান কাইটস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেডের মার্কেটিং এক্সিকউটিভ রিতু আক্তার ইমি বাংলানিউজকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পের পরিচয়ের লক্ষ্যেই আমরা এই ট্রেড শো’র আয়োজন করেছি। স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভালই সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সমানের বছরও নভেম্বরের ৮, ৯, ১০ একই স্থানে আমাদের এ আয়োজন থাকবে।  

আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিন দিনব্যাপী এ ট্রেড শো’র সমাপ্তি ঘটবে।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ১০, ২০১৭
এসআইজে/বিএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।