ঢাকা, রবিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ মে ২০২৪, ১০ জিলকদ ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

জর্জ বুশ সিনিয়র মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১, ২০১৮
জর্জ বুশ সিনিয়র মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার (এইচ ডব্লিউ) বুশ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শনিবার ১ ডিসেম্বর সকালে) সিনিয়র বুশ নামে পরিচিত এ রাজনীতিকের জীবনাবসান ঘটে।

তার ছেলে আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুক্রবার টেক্সাসের হিউস্টন শহরে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ওয়াকার বুশ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এ যোদ্ধা ১৯৬৪ সালে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগদানের পর প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব নেন।

স্ত্রী বারবারার (৯২) মৃত্যুর পর গত এপ্রিলে সংক্রমণজনিত কারণে সিনিয়র বুশকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। চিকিৎসায় স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে মে মাসেই বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়া হয় ওয়াকার বুশকে।

১৯২৪ সালে জন্ম নেওয়া ওয়াকার বুশ ছিলেন জর্জ-জেবসহ ছয় সন্তানের জনক। স্ত্রী বারবারার সঙ্গে ছিল তার ৭৩ বছরের সংসার।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিনিয়র বুশ
ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব সামলে জনপ্রিয়তা লাভের পর প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ে নেমে বিপুল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ওয়াকার বুশ। তবে ১৯৮০’র দশকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের ইতি ঘটলেও তার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে সিনিয়র বুশ বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।  

নির্বাচনে জয়লাভের পর বুশ মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে সেখানকার যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সামরিক শাসক ম্যানুয়াল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তার প্রেসিডেন্সির মূল্যায়নের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ১৯৯০ সালে। তখন ইরাকের সাদ্দাম হুসাইন সরকার কুয়েত দখলের চেষ্টা চালালে এর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ওয়াকার বুশ। পরের বছর ইরাকে এককভাবেই সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকি বাহিনী কুয়েত ছেড়ে গেলেও ওয়াকার বুশের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী বাগদাদের দিকে অগ্রসর হয়। যদিও সেসময় সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত না করার সিদ্ধান্ত নেন সিনিয়র বুশ। তবে এই যুদ্ধের পর তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে।

দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নাক গলানোর ফল হিসেবে ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির বিল ক্লিনটনের কাছে ওয়াকার বুশ হেরে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যদিও ২০০১ সালে তারই ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ হোয়াইট হাউস জয় করেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন। জর্জ বুশ ইরাকের বিরুদ্ধে ‘গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র’ তৈরির অভিযোগ তুলে আগ্রাসন চালিয়ে সাদ্দামকে বন্দি করেন। পরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ওয়াকার বুশের আরেক ছেলে জেব বুশ রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন।  

বাংলাদেশ সময়: ১১০৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০১৮
এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।