ঢাকা, শনিবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

আইন ও আদালত

ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় বাবা-ছেলের যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট     | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪১ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
ইউপি সদস্য হত্যা মামলায় বাবা-ছেলের যাবজ্জীবন

মেহেরপুর: গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের (ষোলটাকা গ্রামের) ইউপি সদস্য কামাল হোসেন হত্যা মামলায় বাবা আলমগীর হোসেন এবং ছেলে আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন সশ্রম করাদণ্ডসহ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) দুপুরের দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আলমগীর হোসেন গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে এবং আব্দুল মালেক একই গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১৭ সালের ২৫ মে আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তার লোকজন ষোলটাকা গ্রামের কফিল উদ্দিনের বাড়িতে ডুকে নিহত কামালের চাচা রাফাতুল ইসলামকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।  

বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সদস্য কামাল হোসেন জোড়পুকুরিয়া থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। কামাল হোসেন আব্দুল মালেকের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছলে আব্দুল মালেকের নির্দেশে তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রকাশ্যে দিবালোকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কামালের ভাতিজা ফারুক হোসেন বাদী হয়ে দণ্ড বিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আলমগীর হোসেন, আব্দুল মালেক, সবতুল্যাহ বিশ্বাস, রাফাতুল্যাহ বিশ্বাস, আব্দুল গনি, মাজেদুল হক, মাজহারুল ইসলাম, রাজু বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম ও তমিরকে আসামি করে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২৫৩/১৭। জি আর কেস নম্বর ১৬৯/২০১৭।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ প্রদান করেন। এতে আসামি আলমগীর হোসেন এবং আব্দুল মালেক দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাদেরকে যাবজ্জীবন সশ্রম করাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

মামলার অপর আসামি সবতুল্যাহ বিশ্বাস, রাফাতুল্যাহ বিশ্বাস, আব্দুল গনি, মাজেদুল হক, মাজহারুল ইসলাম, রাজু বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম ও তমিরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদেরকে বেকসুর খালাস দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি কাজী শহীদ এবং আসামি পক্ষে এ কে এম শফিকুল আলম কৌশলী ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, মার্চ ২৩, ২০২৩
এসএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।