ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, মরিচ-সুপারি কেনা-বেচা বন্ধ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০২৪
খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, মরিচ-সুপারি কেনা-বেচা বন্ধ

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে মরিচ ও সুপারি কেনা-বেচার করে দিয়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র চাষি এবং ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার মরিচ ও সুপারি কেনা- বেচার সর্ববৃহৎ হাট শালবাহান হাট বাজারে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কেনা-বেচা বন্ধ করে দেন তারা।

জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার চাষির মধ্যে মরিচ ও সুপারি চাষি রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। সুপারি ও মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ৫ হাজার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসায়ী। সপ্তাহের দুটি হাটের (শনিবার ও বুধবার) মধ্যে প্রতি হাটে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার মরিচ ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। এই হাটে মরিচ, সুপারি, ভুট্টা, শাক সবজি, ধান, পাটসহ নানা ফসল কেনা-বেচা করেন চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন এই হাটে। হঠাৎ বুধবার থেকে শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ মরিচ ও সুপারির খাজনা আদায়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এতে নতুন খাজনা নির্ধারণের প্রতিবাদে মরিচ ও সুপারি ব্যবসায়ীরা কেনা-বেচা বন্ধ করে দেন।

চাষিদের অভিযোগ, ৩ টাকার পরিবর্তে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে খাজনা নির্ধারণ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ। তাই ব্যবসায়ীরা মরিচ ও সুপারি কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ মরিচ এক কেজি করে বেশি নিচ্ছেন। ফলে লাভের থেকে লোকসান হচ্ছে তাদের। তারা মরিচ বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।

ইউনিয়নের রওশন পুর গ্রামের মরিচ চাষি আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, একটি মরিচের গাছের পেছনে খরচ পড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা। তারপর প্রতি কেজিতে গান্ডি দিতে হয় ৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা প্রতিমণে অতিরিক্ত নেয় ১ কেজি। তাহলে আমরা যাবো কোথায়। আমাদের তো লোকসান হচ্ছে। এই রোদে পুড়ে মরিচ চাষ করে কি লাভ হলো। সার কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি সব বেড়ে গেছে। আজ মরিচ বিক্রি করতে পারলাম না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা মাঠে মারা পড়ব।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলা প্রশাসন থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষকদের বাজারে মরিচ ও সুপারি বিক্রয়ে ইউনিয়ন পরিষদে দেওয়ার জন্য খাজনা নির্ধারণ করে দেয় কেজি প্রতি ৩ টাকা। কিন্তু জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদ একতরফা ভাবে ২ টাকা বাড়িয়ে ৫ টাকা খাজনা আদায় করছে।

মরিচ ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, অন্য কোনো হাটে এতো বেশি খাজনা আদায় করা হয় না। আগে আমরা ট্রাক প্রতি ২শ  টাকা খাজনা দিতাম। এখন প্রতি ট্রাকে ৬ হাজার টাকা খাজনা দিতে হবে। এতে করে আমরা তো লাভ করতে পারবো না। তাই মরিচ কেনা বন্ধ করেছি। এদিকে অতিরিক্ত এক কেজি মরিচ নেওয়ার বিষয়টি জানতে গেলে তিনি আরও বলেন, সব হাটেই চাষিদের কাছ থেকে মণ প্রতি অতিরিক্ত ১ কেজি করে নেওয়া হয়। কারণ অনেক সময় তারা পচা মরিচ দেয়।

ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাজনা বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, খাজনার পরিমাণ বেশি হয়েছে এই অভিযোগ ব্যবসায়ীরা এখনো করেনি। তারা বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু চাষিদের কাছ থেকে তারা প্রতিমণে অতিরিক্ত ১ কেজি করে বেশি মরিচ নিচ্ছে এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি।

এদিকে খবর পেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পরিদর্শন করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলম। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ সম্ভবত ভুল করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত ইউনিয়ন পরিষদকে আগের নির্ধারিত খাজনা আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।