ঢাকা, বুধবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৬ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

সমাজ পাল্টাতে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২০৫ ঘণ্টা, মার্চ ৯, ২০১৫
সমাজ পাল্টাতে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

ঢাকা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারীর মানবাধিকার ঘরে-বাইরে, সর্বস্তরে’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (০৯ মার্চ) মর্যাদায় গড়ি সমতা ও পাক্ষিক অনন্যা নামে দুটি সংগঠন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।


 
পাক্ষিক অনন্যা’র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের আলোচনায় অংশ নেন- সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্ত‍া, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনম, নিজেরা করি সংগঠনের সমন্বয়কারী ও মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রুবাইত ফেরদৌস, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, ওমেন লিডারশিপ প্রজেক্ট’র সভাপতি নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা, সাংবাদিক প্রভাষ আমিন, এনজিওকর্মী মনিষা বিশ্বাস, আলোকচিত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট তসলিমা আখতার, মানবাধিকারকর্মী ও নারীবাদী অ্যাক্টিভিস্ট নাহিদ সুলতানা, সাবেক ডিসি শামিমা বেগম, মহিলা পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখতার, এবিএম মুসা-সেতারা ফাউন্ডেশন’র পরিচালক মরিয়ম মুসা প্রমুখ।

undefined


বৈঠকের শুরুতেই সংসারে নারীর নানামাত্রিক অবদান নিয়ে নির্মিত টুকরো টুকরো কয়েকটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর আলোচনার মূলপর্ব শুরু হয়।  

আলোচনার মূলপর্বে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, ২০১১ সালের নারী নীতিতে ধর্ম বিদ্বেষী বলে কিছু নেই। তারপরও মৌলবাদী শক্তি এর বিরোধিতা করে চলেছে। কারণ এটা চালু হলে তাদের ধর্মব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ ইসলামের সঙ্গে নারীশিক্ষার কোনো বিরোধ নেই। কারণ ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ।

undefined


আজকে প্রধান দুই দলের দুজন নেত্রী কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নিয়ে মতাদ্বন্দ্বে আসলে লোকজন বলেন ঝগড়া। অথচ পুরুষ হলে বলতেন না। নারী বিদ্বেষী চিন্তা থেকে এ ধরনের কথা বলা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
নিজেরা করি সংগঠনের সমন্বয়কারী ও মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, বাড়িতে যে কাজ করা হচ্ছে তার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। ব্যক্তি নারীরা এগুতে পারলেও জাতি হিসেবে এগুতে পারছি না। নারীবাদী মানেই কাউকে সেক্যুলার বা উগ্র ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি নারীবাদী মানে, আমি নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। ভেতরে পরিবর্তন না আনতে পারলে পুরো সমাজটা পাল্টাতে পারবো না।

undefined


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রুবাইত ফেরদৌস বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে সতীত্ব বলে কোনো শব্দ নেই। এটা পুরুষরা নিজেরা ব্যাকরণে তৈরি করেছেন। এভাবেই পুরুষ তার কর্তৃত্ববাদী চেতনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে রেখেছেন। এটা থেকে নারীদের বের হতে হবে।

এনজিও কর্মী মনিষা বিশ্বাস বলেন, নারী-পুরুষের বৈষম্য বাড়ছে। মধ্য আয়ের দেশের দিকে তা বাড়তেই থাকবে। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথাই শুধু বলি। কিন্তু নারীর সাইকোলজিক্যাল, সোশ্যাল বিষয়গুলো আসে না।

undefined


আলোকচিত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট তসলিমা আখতার বলেন, চাকরিরত নারীরা ঘরে বাইরে দুই জায়গায়-ই কাজ করছে। অর্থনীতি শিক্ষায় পিছিয়ে নেই তারা। তাই তাদের আত্মমর্যাদার জায়গা তৈরি করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি হিসেবে কোনো সত্তা নেই তাদের। সন্তানের অভিভাকত্ব দেওয়া হয় না। সংবিধানে বলা হয় নারী-পুরুষ সমান। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই।

undefined


সাবেক ডিসি শামিমা বেগম বলেন, ১৯৭৪ সালে পুলিশে ১৪ জন নারী ছিলেন। ২০১৫ সালে এসে ৭ হাজার অতিক্রম করেছে। পুলিশে মেয়েরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নারী পুলিশ বাড়ছে। আর সেই নারী পুলিশ দেশে তো বটেই, বিদেশের মাটিতেও প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাই আরো নারী পুলিশ নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। সরাসরি শাসন ক্ষমতায় নারী থাকলে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক (অধিকার) বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, নারীদের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। কেননা নারীরা অর্থনৈতিক কাজে আরো অনেক বেশি অবদান রাখতে পারবে।

undefined


মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনম তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য, সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কাজ করছি। ৮৫ ভাগ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন। এসব শুনে খারাপ লাগে, এতদিন আমরা করলাম কি? অনেকেই বলে, পৃথিবীর সব জায়গায় উন্নতি হচ্ছে। আরো মানবিক হচ্ছে পৃথিবী। আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম সুন্দর একটা রাষ্ট্রের জন্য। সুন্দর ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ গঠন করবো বলে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নারী উন্নয়নের কথা বলা হলেও, তা কাঙ্খিত পর্যায়ে আসেনি। আশা করি, খুব শিগগিরই নারী মানুষ হিসেবে সমাজের সর্বস্তরে তার অধিকার ফিরে পাবে।

undefined


গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন, পাক্ষিক অনন্যা’র সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। তিনি তার সমাপণী বক্তব্যে বলেন, নারীদের সামগ্রিকভাবে মুক্তির জন্যে পুরুষের কর্তৃত্ববাদী সমাজব্যবস্থা থেকে বের হতে হবে। পুরুষ জানে নারীকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না। তাদের অনেকে এটা মেনে নারীদের সহযোগিতা করার জন্যে এগিয়ে এসেছেন। যারা আসছেন না, হয় একটা ভ্রান্ত বিশ্বাস তাদের ভেতর এখনো আছে, নয়তো তাদের ইগোর কারণে এখনো নারীইস্যুতে নীরব আছেন। আমার মনে হয় সব নীরবতা ভাঙার সময় এসেছে। এজন্যে নারীদের এখন নিজ নিজ ক্ষমতা বুঝে নিতে হবে।  
 
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, মার্চ ০৯, ২০১৫

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।