ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার উত্তর পাঁচানী গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী শ্রমিক আতিক সরকার এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হাইমচর উপজেলার উত্তর চর কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ পাটওয়ারী।
দীর্ঘ ১৪ বছর পরও হামলাকারীদের বিচার না হওয়ায় হতাশ নিহত দু’জনের পরিবার।
সোমবার (২০ আগস্ট) নিহত দুই পরিবারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ কর্মী আতিক সরকার ঢাকার একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সংসার ছিল তার।
২১ আগস্ট হামলায় নিহত আব্দুল কুদ্দুছ পাটওয়ারীর মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত
আতিকের স্ত্রী লাইলি বেগম বাংলানিউজকে জানান, স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পর দলের পক্ষ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অনেক কষ্টে সংসার চালান তিনি। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেন। সেই থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা লভ্যাংশ দিয়ে চলছে তাদের সংসার। বড় ছেলে মিথুন ও মেয়ে তানিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে স্নাতকে পড়ছেন আর ছোট দুই ছেলে মিন্টু ও সাকিব পড়ছে দশম শ্রেণিতে। ১০ হাজার টাকায় চার সন্তানের পড়া-লেখা ও সংসার খরচ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন লাইলি। সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে দুই ছেলে-মেয়ের কর্মংস্থানের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন তার। পাশাপাশি স্বামীর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান লাইলি।অপরদিকে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কুদ্দুছ পাটওয়ারীর হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারেননি তার মা আমেনা বেগম। তিনি ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেছেন।
আব্দুল কুদ্দুছের বড় ভাই মো. হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর সব সময় খোঁজ খবর রেখেছেন এবং সহায়তা করেছেন। তারা চার হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুছের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে তার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান না সড়কের নামকরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) দিনব্যাপী নিহত আব্দুল কুদ্দুছ পাটওয়ারী স্মরণে মিলাদ, দোয়া, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৩১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১৮
এসআই