এর লেইগা আইজ মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) ভোরে আবার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে আইসা দাঁড়িয়া ছিলাম। বাসে ওঠা বেশ কষ্ট।
সকালে মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী ফিলিং ষ্টেশনে গার্মেন্টস কর্মী তাহমিনা বাংলানিউজকে এ কথাগুলো বলেন। বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। পুরো ঠিকানা জানাতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, এভাবেই গত কয়েক বছর ধরে ঈদে বাড়ি যান তিনি।
ছোট বেলায় বাবা রুস্তম আলী মারা যাওয়ার পর থেকে আশুলিয়ার একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন তিনি। এরপর একটু বেশি আয়ের আশায় কাজ নেন গার্মেন্টসে। এভাবেই চলছে তার সংসার জীবন। সংসার জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জননী তিনি। স্বামী ফিরোজ মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে অনত্র সংসার পেতেছে দীর্ঘদিন। এখন আর যোগাযোগ নেই তার সঙ্গেও। অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ঈদ করতেই বাড়ি ফেরা তার।
যানবাহনের অভাব ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে এভাবেই ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ ও বাসের ছাদে অল্প ভাড়ায় বাড়ি যাচ্ছে তাহমিনার মতো নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ। ঈদে বাড়ি ফেরাই যেন তাদের এখন বড় বিষয়। কষ্ট বা ঝুঁকির ব্যাপারে খুব একটা খেয়াল নেই তাদের।
আজমত আলী নামে এক যাত্রী বলেন, নবীনগর থেকে পিকআপে দুইশো টাকা ভাড়া দিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছেন তিনি। বাসভাড়া যেখানে চারশো বা তার চেয়ে বেশি। পাটুরিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে নৌরুট পারাপার হয়ে একইভাবে অথবা কোনো লোকাল বাসে করে মাগুরায় যাবেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাংলানিউজকে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের প্রচুর চাপ রয়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে করে বা বাসের ছাদে করেও বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। এখন আর এ সমস্ত যানবাহনে মামলা দেওয়ার সময় নেই। নিরাপদে সবাই বাড়ি পৌঁছে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করুক সবাই। এ মুহূর্তে এটুকুই কামনা করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১০৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২১, ২০১৮
কেএসএইচ/আরবি/