জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ও শিশু ওয়ার্ডে বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা অধিক।
কিছু শিশুর বেশি ঠাণ্ডা লাগায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের বেশ যত্ন সহকারে সেবা দিচ্ছে কর্তব্যরত সেবিকাগণ ও শিক্ষানবিশ সেবিকাগণ। রোগী বেশি হওয়ায় সেবিকাদের বেশ ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসকল শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের সাথে সাথে শীতের তীব্রতায় বয়স্ক ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যাও কম নয়। বেশির ভাগ বয়স্ক রোগী ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু তাহের জানান, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত দুই, তিন দিনে শিশু ওয়ার্ডে ৪২ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩২ জন ও বয়স্ক রোগী ভর্তি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন। হাসপাতালে রোগী ভর্তির পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর চিকিৎসার জন্য যথাযথ খেয়াল রেখে চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীদের যত্ন সহকারে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ফুলগাজীর শ্রীপুর থেকে এসেছেন। তার দুই দিন ধরে ডায়রিয়া হচ্ছে। সিট না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসাধীন শিশুর অভিভাবকরা জানান, বাচ্চার ঠাণ্ডা লাগার পর হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার দেখে বলেছেন বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলেও হাসপাতাল থেকে তা পাওয়া যায় না। ওষুধ সব বাহির থেকে কিনে আনতে হয়।
ফুলগাজীর মুন্সিরহাট এলাকার ৬ বছর বয়সী এক শিশুর অভিভাবক জাহিদুল আলম জানান, গত ১০ দিন ধরে বাচ্চা জ্বরে ভুগছে। দুই দিন আগে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, শীতের প্রকোপে শিশুদের ডায়রিয়া ও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তিনজন চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে একজন মেডিকেল অফিসারকে দিয়ে আন্ত:বিভাগ ও বহি:বিভাগে শিশু রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দাগনভূঞা উপজেলার আরেকজন মেডিকেল অফিসারকে ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। মোট দুইজনকে দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন, শিশুদেরকে অবশ্যই সব সময় গরম কাপড় পড়িয়ে রাখতে হবে, যাতে কোন অবস্থাতেই ঠাণ্ডা না লাগে। যদি শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যায় তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, না হলে শিশুর সামান্য ঠাণ্ডা বেড়ে নিউমোনিয়ার দিকে চলে যাবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২২৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০১৯
এসএইচডি/এমআরপি