কুমিল্লা: কুমিল্লায় হালিমা খাতুন নামে এক নারীর ক্ষেতের বেগুন-শিম গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পরিহলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হালিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী ইউনুস মিয়া অসুস্থ। কাজ করতে পারেন না। ছেলে-মেয়েকে খাওয়াতে হলে কিছু একটা তো করতে হবে। এ চিন্তা থেকে ২২ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে এবং এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নিজে সবজি চাষ করতে শুরু করি। গত দেড় মাস আগে পাশের বাড়ির ময়নাল মিয়া ও তার ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়। সেদিন রাতে ময়নাল ও তার ছেলে সাব্বির আমার ক্ষেতের লাউ গাছগুলো কেটে দেয়। তখন গ্রামের লোকদের কাছে বিচার দিলে প্রমাণ না থাকায় কেউ কোনো ব্যবস্থা নেননি। গত শুক্রবার গাছের পাতা কুড়ানো নিয়ে তাদের সঙ্গে আবার ঝগড়া হয়। সেদিন রাতে তারা আমার জমির বেগুন গাছগুলো কেটে দেয়। শনিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কাটা গাছগুলো দেখে ঘরে গিয়ে কান্নাকাটি করি। ওই দিন ঘটনাটি মানুষকে জানানোর প্রস্তুতি নিলে তারা আবার রাতে শিম গাছগুলো কেটে দেয়।
তিনি বলেন, মাত্র একবার ক্ষেতের সবজি বিক্রি করেছি। বেগুনগুলো বিক্রির উপযোগী হয়নি এখনো। এক বার বা দুই বার নয়, এ পর্যন্ত পাঁচ বার সবজি নষ্ট করেছে প্রতিপক্ষ। গরিব ও অসহায় হওয়ায় কেউ দরবারও করতে আসে না। আমার এতো টাকার ক্ষতি কীভাবে পূরণ করবো জানি না। আমার মরা ছাড়া উপায় নেই।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, খবর শুনে সেখানে গিয়েছি। হালিমা বেগম খুবই দরিদ্র কৃষক। হিসেব করে দেখেছি, তার অন্তত ৬০ হাজার টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। তিনি লিজ নিয়ে জমিটা চাষ করেছেন। এভাবে তার ক্ষতি যে করেছে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা দেখছি, কোনো প্রকল্পের আওতায় এনে তাকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়।
বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আমরা লিখিত কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ৬, ২০২২
এসআই