ঢাকা, সোমবার, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

রাজনীতি

ভারত ক্ষমতায় বসাবে না, পাশে থাকলে শক্তি পাই: কাদের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১২১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০২৩
ভারত ক্ষমতায় বসাবে না, পাশে থাকলে শক্তি পাই: কাদের

ঢাকা: ভারত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভারত আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। ভোট আমাদের জনগণই দেবে।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঢাকা সফররত ভারতীয় সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। কিন্তু ভারত আমাদের পাশে আছে, এটা মেটার। ভারতকে আমরা বন্ধু হিসেবে পাশে দেখতে চাই। আমাদের ভোট আমাদের জনগণ দেবে। আপনারা পাশে থাকলে আমরা শক্তি পাই। কারণ আমাদের এখানে শত্রু বেশি, ষড়যন্ত্র বেশি। ’

ভারতীয় সাংবাদিকদের কাদের বলেন, ‘আপনাদের একটা কথা বলতে চাই। আমাদের ভুল-ত্রুটি আছে। কিন্তু তারপরও একটা কথা মনে রাখবেন, বিশ্বাস করবেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার চেয়ে কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু আরেকজন আপনাদের নেই। এটা ভারতকে মনে রাখতে হবে। ’

আগামী নির্বাচনে জেতা কতটা কঠিন হবে আওয়ামী লীগের?
সামনের নির্বাচনে জেতাটা আওয়ামী লীগের পক্ষে কতটা কঠিন হবে? ভারতীয় এক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখানে Anti-incumbency (ক্ষমতা বিরোধীতা) একটা বিষয় আছে। এতদিন ধরে ক্ষমতায় আছি ১৪ বছর। তার আগে মাঝখানে বাদ দিয়ে ৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত ৫ বছর। থার্ড টার্ম অতিক্রম করে চতুর্থ টার্মের জন্য আমরা নির্বাচনে যাব। এটা সম্ভবত পরের জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে। অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি একটা বিষয় আছে। আমরা মনে করছি গতবারের নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন আরেকটু টাফ হবে। এখানে কস্ট অব লিভিং একটা বিষয়। কস্ট অব লিভিং (জীবনযাত্রার খরচ) মানুষকে সরাসরি অ্যাফেক্ট (প্রভাবিত) করে। এটা যদি আমরা সামাল দিতে ব্যর্থ হই তাহলে ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। ’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারপরও একটা বিষয় এ যে আমরা এতগুলো উন্নয়ন করলাম। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ মনে করে পদ্মা সেতু হয়েছে বলে তারা ২ ঘণ্টা, ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় আসতে পারে। এগুলোও মানুষ চিন্তা করে। ’

আওয়ামী লীগের বিরোধী দলগুলোর কথা বলতে গিয়ে কাদের বলেন, ‘আমাদের অপজিশনে আছে, মূল বিএনপি, সঙ্গে জামায়াত, তার সঙ্গে অতি বাম, অতি ডান। ’

বিএনপির নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দক্ষতা ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিষয়ে দলের প্রশ্নহীন ঐক্যমতের কথা তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব ভালো একজন ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেন।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের একাত্তরের রাখিবন্ধন অটুট আছে। রক্তের রাখিবন্ধন আমরা ভুলি না, কখনো ভুলতে পারি না। ’

কাদের বলেন, ‘ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব। যখন যারা ক্ষমতা আছে তখন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। যদি তারা বন্ধুত্ব রাখেন। নরেন্দ্র মোদি রেখেছেন, সেজন্য আছে। এ বন্ধুত্বের বিকাশ হয়েছে। আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মধ্যে অনেক মিল আছে। ’

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক বজায় রেখে আমরা আমাদের পাওনাটা, ভারতের কাছ থেকে। আমাদের যে সুবিধা সেটা আমরা পাবো না। ’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্ব ছাড়া, আমরা এখানে নিজেদের যেসব ইস্যুগুলো আছে সেগুলোর সমাধান করতে হলে বন্ধুত্ব রাখতে হবে এবং আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে হবে। সেটা আমরা বিশ্বাস করি। ’

অতিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময়, এখানে এত শান্তিপূর্ণ ছিল। এটা একটা বিরাট অর্জন, এর কৃতিত্ব আমাদের নেত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবশ্যই দিতে হবে। তারপরও আমাদের কিছু কিছু ব্যাপার আছে, যেমন তিস্তা। এ বিষয়গুলো আছে। সেটা আলোচনার মধ্যে আছে। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত প্রমুখ।

গত ৬ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে কলকাতা থেকে ২৫ জন এবং আসাম ও গৌহাটি থেকে নয়জন সাংবাদিক বাংলাদেশ সফরে আসেন।

বাংলাদেশ সময়: ০১১৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০২২
এমইউএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।