ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

রাজনীতি

শহীদ মিনারে জুতা পায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩
শহীদ মিনারে জুতা পায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুতা-স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারে উঠেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা! শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে এই দৃশ্য দেখা যায়।

আগামী ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে শেখ হাসিনার মহাসমাবেশ ও ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে নেতাকর্মীদের জুতা পায়ে দিয়েই এভাবে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকতে দেখা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় শহীদ মিনারের পশ্চিম দিকের নির্দিষ্ট সীমানা পেরিয়ে শহীদ বেদিতে জুতা-স্যান্ডেল পায়ে অবস্থান করেন অনেকেই।

জুতা পায়ে থাকা এক ছাত্রলীগ কর্মী জানান, শহীদ মিনারের পাশেই সম্মেলনের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী, তাই ছোট্ট জায়গায় এতো মানুষের জায়গা হয়নি। বাধ্য হয়েই অনেকে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ও বসে প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছে ও নেতাদের বক্তব্য শুনেছেন। আসলে শহীদ মিনারে উঠেছি এমনটা স্মরণে ছিল না। তা হলে অব্যশই জুতা খুলে উঠতাম। একথা বলেই তিনি শহীদ মিনার থেকে নেমে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি যখন শহীদ মিনারে উঠেছি, তখন আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তাই একটা ছবি তোলার জন্য উপরে এসেছি। জুতা পায়ে থাকার বিষয়টি খেয়াল করিনি। তবে এটি অবশ্যই ভুল হয়েছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শংকর কুমার কুন্ড বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় ‘কেউ এখানে জুতা পায়ে না ওঠে’ এমন সর্তকবাণী দেওয়া আছে, যাতে । এরপরও কেউ যদি জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠলে তা অত্যান্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারে অন্যান্য দিন কলেজের একজন দাপ্তরিক রাখা হয়, যাতে কেউ জুতা পায়ে না ওঠে। তবে আজকে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রাম ছিল, তাই শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার দায়দায়িত্ব তাদের।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান মুঠোফোনে জানান, সম্মেলন চলাকালে একাধিকবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, যাতে কেউ শহীদ মিনারে জুতা পায়ে না ওঠে। এরপরও যদি কেউ ওঠে, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক ও অন্যায় হয়েছে।

প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, জেলা আ.লীগের সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান।

সম্মেলনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট) আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক এমপি ও জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক এমপি জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩
এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।