ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

বিএনপির নেতারা ভারতীয় শাড়ি কেনেন না: রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩২ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৪
বিএনপির নেতারা ভারতীয় শাড়ি কেনেন না: রিজভী

ঢাকা: ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া বিএনপির নেতারা তাদের স্ত্রীদের ‘ভারতীয় শাড়ি’ কেন পুড়িয়ে দিচ্ছেন না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির নেতারা ভারতীয় শাড়ি তেমন কেনেন না।  

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘গুম-খুন ও অঙ্গহানির শিকার’ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আমাদের বিএনপির নেতারা ভারতীয় শাড়ি তেমন কেনেন না। আমার নানাবাড়ি হচ্ছে ভারত। বিয়ের পরে একবার গিয়েছিলাম, আমার ছোট মামা একটা ভারতীয় শাড়ি দিয়েছিলেন। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, ওই শাড়িটা কই। সে বলল, সেটা দিয়ে কবে কাঁথা সেলাই করা হয়েছে, সেটাও ছিঁড়ে গেছে।

রিজভী বলেন, আজকে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলাই মনে হচ্ছে পাপ। একটি জিনিস না বললেই নয়; দুই-একটি পত্রিকা, খুব দেখি বিচলিত হয়ে গেছে—ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করা ঠিক হচ্ছে কি না। এটা নিয়ে দেখি প্রতিবেদন হচ্ছে, নিউজ করছে।

ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আমরা যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি, আমাদের কখনো বলা হয়নি যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সমালোচনা করা যাবে না। আমরা ছাত্রজীবন থেকে ‘সিকিম নয়, ভুটান নয় এ দেশ আমার বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছি। ‘রুশ-ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার’ স্লোগান দিয়ে এসেছি। আজকে কয়েকটি মিডিয়া যেন খুব বিচলিত হয়ে গেছে; এ কী ব্যাপার! এটা তো শুধু আজকে নতুন নয়, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের বামপন্থিরা তাদের গবেষণায়, তাদের মূল্যায়নে, ভারতকে আগ্রাসী-সম্প্রসারণবাদী শক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর এবং গুম হয়ে ভারত চলে যাওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আজকে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে কেন, এটা কি মানুষ জানে না? মানুষ তো বলে, টিপাই মুখে ভারত যে বাঁধ করছিল, তার প্রতিবাদে ইলিয়াস আলীর যে শক্ত অবস্থান, তার প্রতিবাদে সে যে লং মার্চ করেছিল, তারপর সে নেই। আজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, তিনি এমপি ছিলেন কয়েকবার, মন্ত্রী ছিলেন, হঠাৎ করে তিনি নাই হয়ে গেলেন, গুম হয়ে গেলেন, চলে গেলেন আরেকটি দেশে। এসব কি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যায় না?

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেই শুনলাম, বাংলাদেশের একজন ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাক করেছেন বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে। মুম্বাইয়ের কাছাকাছি নামবেন। তাকে নামতে দেওয়া হয়নি। পরে পাকিস্তানে নেমেছে তার ফ্লাইট। এগুলো কীসের আলামত?

বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০১৪ সালে পার্শ্ববর্তী দেশের কূটনীতিক এসে ভোটারবিহীন সরকারকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে গেলেন। ২০১৮ সালে রাতে ভোট হলো, সেই নির্বাচনকেও তারা স্বীকৃতি দিল। এবার ২০২৪ সালে এত বড় একটা ডামি নির্বাচন হয়ে গেল, তারপরও প্রকাশ্যে তারা বলছেন, আমরা এই সরকারের পাশে আছি।

রিজভী বলেন, যারা একটি ভোট ডাকাত সরকারকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে, সেই দেশের পণ্য বর্জন করা ন্যায়সংগত, তাদের বিরুদ্ধে যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, আমরা সেই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৪
ইএসএস/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।