ঢাকা, রবিবার, ১৫ মাঘ ১৪২৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬ রজব ১৪৪৪

রাজনীতি

বিএনপির সমাবেশস্থলে ছাত্রসমাবেশ ডেকেছে ছাত্রলীগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৭, ২০২২
বিএনপির সমাবেশস্থলে ছাত্রসমাবেশ ডেকেছে ছাত্রলীগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশ স্থলেই ছাত্রসমাবেশ ডেকেছে ছাত্রলীগ।

সমাবেশের আগেই জেলা বিএনপির শীর্ষ ৩ নেতাকে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনের সত্যতা স্বীকার করেছেন।  

শনিবার (০৮ জানুয়ারি) শহরের ফুলবাড়ীয়া কনভেনশন সেন্টার প্রাঙ্গনে জেলা বিএনপি এই সমাবেশ আহ্বান করার কথা। এতে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়াসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত থাকার কথা।  

এরই মধ্যে জেলা ছাত্রলীগও একই দিনে, একই স্থানে বিকেল ৩টায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেয়।  

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের সমাবেশের জন্য শহরের তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে পৌরমুক্ত মঞ্চ, টেংকের পাড় ও ফুলবাড়ীয়া কনভেনশন সেন্টার এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলবাড়ীয়া কনভেনশন সেন্টার এলাকায় সমাবেশ করার মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরপরই তারা প্রচার প্রচারণা চালায়।  

জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একই স্থানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র জমায়েতের আয়োজন করে। এ নিয়ে শহরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। জেলা বিএনপি তাদের সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালিয়েছে। ছাত্রলীগও সভা করতে মরিয়া। শুক্রবার শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়। অন্যদিকে জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।  

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা সেখানে ছাত্র সমাবেশের আহবান করেছি।  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, একই দিনে, একই স্থানে উভয় পক্ষ সমাবেশ ডাকায় জেলা প্রশাসক থেকে কোনো অনুমতি দেয়নি।  

নেতাকর্মীদের আটক ও গ্রেফতার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা জানাচ্ছি। শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও প্রশাসন মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন জানান, ৩ নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।  

এর আগেও, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমাবেশ আহ্বান করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে সে সময় সমাবেশ করতে পারেনি। ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই স্থানে সমাবেশ আহ্বান করে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০২২
এনটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa