ঢাকা, রবিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ মে ২০২৪, ১০ জিলকদ ১৪৪৫

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

রূপপুরের জ্বালানি আনার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল বাংলাদেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০২৩
রূপপুরের জ্বালানি আনার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল বাংলাদেশ

ঢাকা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (অরএনপিপি) ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ ফ্রেশ জ্বালানির প্রথম ব্যাচের উৎপাদনও সম্পন্ন হয়েছে৷

বুধবার (৯ আগস্ট) দুই পক্ষের প্রতিনিধির প্রটোকল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়৷ রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়৷

এতে বলা হয়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য ফ্রেশ জ্বালানির প্রথম ব্যাচের উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) রোসাটমের জ্বালানি কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কন্সেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এ জ্বালানি এক্সসেপটেন্স ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে।
ইন্সপেকশনে অংশ নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, এনসিসিপি, টেভেল এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট (এএসই) প্রতিনিধিরা। সফলভাবে ইন্সপেকশন সম্পন্ন হওয়ার পর এক্সসেপটেন্স প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন রূপপুর এনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর এবং এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও নির্মাণ প্রকল্পের অপর প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরী।

প্রটোকল স্বাক্ষরের পর এ ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানা থেকে বাংলাদেশে শিপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেল। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই এ জ্বালানি বাংলাদেশ আসবে।

টেভেলের কোয়ালিটি ডিরেক্টর আলেক্সান্দার বুখালভ বলেন, সফলভাবে পরিচালিত আমাদের সব ভিভিইআর-১২০০ পাওয়ার ইউনিটগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে টেভেল ফুয়েল কোম্পানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উন্নত এবং কার্যকর পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন করেছি। প্রাক-উৎপাদন এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের সব অগ্রাধিকারগুলো বিবেচনায় নিয়েছি। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আমাদের এ জ্বালানি আবার রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করবে।

রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরী জানান, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। রোসাটমের প্রকৌশল শাখা সব ক্ষেত্রেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পূরণ করছে। প্রকল্প সাইটে জ্বালানি পৌঁছানোর পূর্বেই প্রথম ইউনিটটি জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এছাড়া রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের আগ পর্যন্ত সব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ করেই এ জ্বালানি সংরক্ষণের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশকে যে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা বর্তমানে সক্রিয় ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিটে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো হলো- লেনিনগ্রাদ এনপিপি, নভোভারোনেঝ এনপিপি এবং বেলারুশ এনপিপি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন রোসাটম কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা। প্রকল্পটিতে দু’টি ইউনিট স্থাপিত হবে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।

বাংলাদেশ সময়: ২২২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০২৩
এসকে/এসআই
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এর সর্বশেষ