শুধু সমর্থকরাই নন, জুভেন্টাস থেকে বিদায়ের দিনে কাঁদলেন নিজেও। ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ১৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি।
বৃহস্পতিবারই (১৮ মে) এই মৌসুম শেষে জুভেন্টাস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই সব রকম প্রস্তুতি নিয়েই তাদের কিংবদন্তিকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন সমর্থকরা। ম্যাচ শুরুর আগেই চোখের পানিতে ভিজে একাকার বুফন ও তার ভক্তরা। যতক্ষণ মাঠে ছিলেন ততক্ষণ রৌদ্রোজ্জ্বল প্রকৃতিও তাকে সঙ্গ দিয়েছে। কিন্তু ৬৪ মিনিটে যখন কার্লো পিনসোগলিওকে জায়গা দিয়ে তিনি মাঠ ছাড়লেন, আকাশ ভেঙে বৃষ্টি শুরু হলো। যেন ফুটবলের এই নায়কের বিদায়ে আকাশও কেঁদে তার দুঃখ জানিয়ে দিলো।
২০০১ সাল থেকে যাকে আদর্শ মেনেছে ভক্তরা, তার শেষ ম্যাচে বিদায়টা রাঙিয়ে দিতে কোনও কমতি করেনি গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা। ম্যাচ শুরুর আগে স্ট্যান্ডে ভক্তদের জড়িয়ে ধরলেন, হাত মেলালেন এবং ভক্তরাও তার কপালে চুমু দিলো।
পুরো গ্যালারি ঢাকা ছিল ব্যানারে। তেমনই এক ব্যানারে লেখা ছিলো ‘অমর নায়ক বুফন’। ইতালির দীর্ঘদিনের এক নম্বর জার্সিধারীর অল্পবয়সী এক ছবির ব্যানারে লেখা ছিলো, ‘হ্যালো গিগি! তুমি আমার আশ্চর্য দেয়াল’। একটি ব্যানারে খুব ছোট্ট শব্দে খেলা ছিলো ‘কিংবদন্তি’।
ম্যাচের আগেই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে তিন ছেলে লুইস, ডেভিড ও লিওপোল্ডোকে নিয়ে মাঠে এসেছিলেন বুফন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইয়ারিয়া ডি’আমিকো। তাদের সঙ্গে করে ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়েন ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক।
২০০১ সালে যোগ দেওয়া ক্লাবে শেষ ম্যাচেও মাঠে দেখা গেছে পুরনো বুফনকে। যতক্ষণ মাঠে ছিলেন কোনো গোলের সুযোগ দেননি প্রতিপক্ষকে। দল ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় মাঠ ছাড়েন তিনি। সতীর্থদের গার্ড অব অনার পান। বেঞ্চে বসার আগে মাঠের বাইরের খেলোয়াড়দের ও কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রিকে জড়িয়ে ধরেন। অবশ্য তার বদলি হিসেবে নামার ১০ মিনিট পর পিনসোগলিও আর গোলমুখ সামলাতে পারেননি।
বাংলাদেশ সময়: ১১১০ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১৮
এমকেএম/আরআর