ঢাকা: ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন ফাঁকা মাঠ ও নতুন ভবনের সামনের খালি জায়গা লিজ নিয়ে পার্কিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে রাজু নামে এক ঠিকাদার। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো যেখানে এখন পার্কিং করে রাখা হয় বছরখানেক আগেও সেগুলো থাকতো হাসপাতালের বাইরে।
সূত্র জানায়, দিনে এবং রাতে এই অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং স্পটে চলে মাদক সেবন। কেউ সেবন করে গাঁজা, কেউবা ইয়াবা। তবে, রাতের দৃশ্য দেখলে মনে হতে পারে, জায়গাটি যেন মাদকসেবীদের জন্য বরাদ্দ করা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে যেসব অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয় তার অধিকাংশেরই মালিক ঢাকা মেডিক্যালের স্টাফ। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য তারা আবার বাইরের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের কাজ হচ্ছে রোগী সংগ্রহ করা।
পার্কিং সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে যেহেতু পার্কিংয়ের অনুমতি ছিল না তাই অ্যাম্বুলেন্সগুলো হাসপাতালের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো। এখন পার্কিং স্পট লিজ নিয়েছে রাজু নামে এক ঠিকাদার। লিজের নিয়ম অনুযায়ী পার্কিং করে রাখা প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে রাজু টাকা নিচ্ছে।
ওই সূত্রটির দাবি, ১৫ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওই পার্কিং স্পট থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সসহ চালক জালাল উদ্দিন ওরফে সুমনকে (৩৫) গ্রেফতার করে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে মিলে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সুমন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে সেই অ্যাম্বুলেন্সটি।
ঢাকা মেডিক্যালের পার্কিং স্পট লিজ নেওয়া চন্দ্রদ্বীপ ট্রেডার্সের কর্মকর্তা রাজু জানান, গত এক বছর আগে দরপত্রের মাধ্যমে তারা ঢামেকের পার্কিং লিজ নেন। সময় এক বছর পেরিয়ে গেলে আরও এক বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কেন্দ্রীক যত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে সেগুলোর অধিকাংশের মালিক হাসপাতালের স্টাফ ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা।
পার্কিং স্পটে মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বেশ কয়েক মাস আগে মাদক সেবনের দায়ে পার্কিং স্পট থেকে ৯ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য তার মালিকরা একজন করে লোক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে যাত্রী সংগ্রহ করা। কে কত যাত্রী সংগ্রহ করতে পারে সে অনুযায়ী তাকে কমিশন দেয় অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এরা অধিকাংশই হচ্ছে মাদকাসক্ত।
তিনি জানান, পার্কিং স্পটে নিজস্ব উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রতিদিন সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়।
সিসিটিভি লাগানোর পর মাদক সেবনের আড্ডা আর দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন চন্দ্রদ্বীপ ট্রেডার্সের কর্মকর্তা রাজু।
এ বিষয়ে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দরপত্রের মাধ্যমে একটি কোম্পানি পার্কিংয়ের টেন্ডার পেয়েছে। হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতরে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পার্কিং স্পটে মাদক সেবনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের লোকজন মাদক সেবন করবে এটা কোনোভাবে বরদাশত করা যাবে না। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো যেহেতু হাসপাতাল কেন্দ্রীক ব্যবসা করে তাই এখন থেকে প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সকেই মনিটরিং করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৫ ঘণ্টা, আগস্ট ১৯, ২০২০
এজেডএস/এইচএডি