সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে মেলার ভেতরের প্রায় প্র্রতিটি রাস্তায় দেখা মিলছে হকারের। পণ্যের পসরা সাজিয়ে অবাধে বিক্রি করছেন হরেক রকমের পণ্য।
দেখা যায়, মেলার ভিআইপ গেট সংলগ্ন ফুড জোন ও শিশুপার্কের আশেপাশ, চন্দ্রিমা উদ্যোনের কোলঘেঁষে বেশি চোখে পড়েছে হকার। রয়েছে মেইন ফটকের আশপাশে কিংবা স্টল বা প্যাভিলিয়নের সামনের ফাঁকা রাস্তায়। পাশাপাশি ভিক্ষুকদের কারণে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে এমন পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
এর আগে ‘কৌশলে বাণিজ্যমেলায় প্রবেশ করছেন হকার’ বাংলানিউজে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর কঠোর ব্যবস্থা নেয় মেলা বাস্তবায়ন কমিটি। দিনে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে কমিটি। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক/দেড় সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যমেলায় হকার চোখে না পড়লেও শেষ মুহূর্তে মেলায় হকারদের আনাগোনা বাড়ছে।
তবে হকার ও ভিক্ষুকের এমন আচরণে ক্ষুদ্ধ বেশিরভাগ ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তাদের মতে, মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মেলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের সুযোগ থাকে। মেলার সঙ্গে দেশের সম্মান জড়িত, হকারের অবাধ প্রবেশ দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে না। বিদেশি অনেক দর্শনার্থীরা প্রতিদিন আসছেন এখানে। এ অবস্থার হকার-ভিক্ষুকের উপস্থিতি সম্মানের না।
মেলায় আগত সাহেলি সুলতানা বাংলানিউজকে বলেন, বাণিজ্যমেলাকে হকার ও ভিক্ষুক মুক্ত করা হোক। এটা আন্তর্জাতিক মেলা, এখানে দেশের মানসম্মান জড়িত। বিদেশি দর্শনার্থী এটা দেখলে, ভালোভাবে নেবেন না। সাহেলির মতো একই কথা বললেন আরও একাধিক ক্রেতা-দর্শনার্থী।
আরও পড়ুন>>বাণিজ্যমেলায় ‘আখেরি অফার’
তবে মেলা বাস্তবায়ন কমিটি বলছেন, মেলাকে সফল করার জন্য মেলা কমিটি প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থানে আছে, শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। হকার প্রবেশ বন্ধ করতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হবো।
এ বিষয়ে মেলা বাস্তবায়ন কিমিটির সচিব আব্দুর রউফ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি। মেলার পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। দর্শনার্থী সেজে হয়তো অনেকেই (হকার) মেলায় প্রবেশ করছে। তবে যারা প্রবেশ করছে বা তাদের প্রবেশে কেউ যদি উৎসাহ দেয়, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা, এখানে দেশি-বিদেশি ক্রেতা-দর্শনার্থীর মিলনমেলা।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০
ইএআর/ওএইচ/