ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৯ শাবান ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

শেষ হলো ঢাকা লিট ফেস্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৮, ২০২৩
শেষ হলো ঢাকা লিট ফেস্ট

ঢাকা: বিশ্ব সাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্যের সেতুবন্ধনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমিতে শেষ হলো চারদিনের ঢাকা আন্তর্জাতিক লিট ফেস্ট। পর্দা নামলো সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদদের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরের।

এই চারদিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছিল সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম এক গন্তব্য। তাদের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। এই চারদিনে ১৭৫টি সেশনে অংশ নেন শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার পাঁচ মহাদেশের ৫ শতাধিক বক্তা।

রোববার (৮ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসর। সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান যাত্রিকের প্রযোজনায় নায়লা আজাদের পরিচালনায় নারী অধিকার, সমতা, সংগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে প্রদর্শিত হয়েছে নৃত্য। পরে শুরু হয় বক্তব্য পর্ব।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, অসাধারণ কয়েকটি দিন কাটিয়েছি এখানে। এটি একটি চমৎকার আয়োজন। আয়োজকদের অতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এটি একটি সত্যিকার অর্থে পাঠক লেখকদের সমাবেশ। একজন ভারতীয় হিসেবে বলতে চাই, এখানে আমি নিজেকে ভিনদেশি মনে করিনি। আমাদের মধ্যে অনেক কিছু আছে। দুই দেশের সীমানা কখনও আমাদের আলাদা করতে পারে না।

এই ফেস্টে অন্যতম আলোচক ছিলেন সোমালিয়ান সাহিত্যিক নুরুদ্দিন ফারাহ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী এই বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক বলেন, আমি যখন কেপটাউনে ফিরে যাবো, আমার বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করবে এখানে কী হয়েছে, কারা এসেছেন। আমি বলবো, এই উৎসব অন্যান্য উৎসব থেকে একেবারেই ভিন্ন। আমি এখানে নেমে যা ধারণা করেছিলাম তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাকে যখন জিজ্ঞেস করবে, কী সংখ্যক মানুষ শুনতে এসেছিল, আমি বলবো ডোনাল্ড ট্রাম্পের এনিভার্সারি থেকেও বেশি মানুষ এসেছিল (মজার ছলে বলেন)। এখানকার খাবার চমৎকার। আয়োজকদের ব্যক্তিগত বাড়িতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি তাদের অতিথেয়তায় মুগ্ধ। তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই আয়োজন থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, আশা করি আপনারাও শিখেছেন।

অনুষ্ঠানে টাইটেল স্পন্সর ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ঢাকা লিট ফেস্ট এই শহরের একটি অংশ হয়ে গেছে। তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখর এই প্রাঙ্গণ দেখে বোঝা যায় এই আয়োজনের সফলতা। আয়োজকরা চমৎকার একটি আয়োজন দিয়েছেন এই শহরে।

আয়োজনের প্লাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংকের সিইও এবং সাহিত্যিক মাসরুর আরেফীন বলেন, আমি একজন সিরিয়াস ধরনের লেখক। আমি কাজী আনিস আহমেদকে নিয়ে খুব আশাবাদী। তিনি একজন ভালো লেখক। লেখা এবং লেখক নিয়ে তার লক্ষ্য স্পষ্ট। যখন বিদেশি লেখকরা আমাদের এখানে আসেন, তখন আমাদের লেখকদের সঙ্গে তাদের একটি আদান-প্রদান হয়।

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক ও প্রযোজক সাদাফ সায বলেন, সবকিছু পাশে রেখে আমার বিশ্বাস ছিল উৎসবে। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া এই আয়োজন সফল হতো না। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

তিনি এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় আয়োজনের অপর দুই পরিচালক আহসান আকবার ও ড. কাজী আনিস আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিনভর নানা সেশনে পার হয়েছে শেষ দিন। সেই সঙ্গে এদিন ছিল ফিল্ম স্ক্রিনিং, আলোচনা, সংগীত পরিবেশনা। দিন শেষে দর্শকদের আন্দোলিত করে কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্ট।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৮, ২০২৩
এইচএমএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।