ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জাপানিজ ধারায় কমিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০২৩
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জাপানিজ ধারায় কমিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ঢাকা: বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন নিয়ে জাপানি চিত্রকলা (গ্রাফিক্স নোবেল জাপানিজ ‘মাঙ্গা’ ফর্মে) একটি কমিক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার (৫ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু’ নামের বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

 

বইটি যৌথভাবে লিখেছেন স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম ই চৌধুরী শামীম এবং শাইন পার্টনারস করপোরেশন জাপানের প্রধান নির্বাহী ইয়েমতো কিয়েতা। বইটি প্রকাশ করেছে এনআরবি স্কলার্স পাবলিশার্স লিমিটেড।

জাপানিদের কমিক ও কার্টুন ধাঁচের চিত্রকলার একটি ধরন হচ্ছে ‘মাঙ্গা’। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রাম এ মাঙ্গা ফর্মে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। বর্ণনা এবং ব্যতিক্রমী ছবিতে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের কথা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা, ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বুয়েট গ্র্যাজুয়েটস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ফখরুল আলম।  

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দিলারা আফরোজ খান রূপা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক অধ্যাপক ফখরুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, এম ই চৌধুরী শামীম ও ইওয়ামোটো কেইটা যৌথভাবে রচনা করেছেন শিশু-কিশোরদের উপযোগী বই ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় অবদানের ফলে বাংলাদেশ যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে সে কথাও বলা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ বইটি পাঠ করে পাঠকেরা জানতে পারবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বইটির ব্যাপক প্রচার ও প্রসার কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে ঢাবি অধ্যাপক ফখরুল আলম বলেন, বাংলা, ইংরেজি ও জাপানি- এ তিন ভাষায় বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। জাপানের জনপ্রিয় মাঙ্গা ফর্মে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই প্রকাশের ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, মাঙ্গা ফর্মে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ বইটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে মাঙ্গা ফর্মে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম বই। বাংলা একাডেমি এ ধরনের বই প্রকাশের উদ্যোগ নেবে।

অনুষ্ঠানে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বুয়েট গ্র্যাজুয়েটস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, জাপান আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের জন্ম থেকে জাপান আমাদের উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে। তাই জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে জনপ্রিয় মাঙ্গা ফর্মে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটি এবং এনআরবি স্কলার্স পাবলিশার্স-এর প্রেসিডেন্ট এম ই চৌধুরী শামীম-এর বিশেষ উদ্যোগে এবং শাইন পার্টনার্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওয়ামোতো কেইটার সহযোগিতায় ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি প্রকাশ করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। এটা অত্যন্ত অর্থবহ ও শিক্ষণীয় যে শিশুরা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস মাঙ্গার মাধ্যমে জানতে পারবে। ইংরেজি, বাংলা এবং এমনকি জাপানি ভাষায় বইটির প্রকাশনা জাপানি শিশুদেরও জানার সুযোগ করে দিয়েছে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জাপানিদের ধারণা আরও গভীরতর করবে। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে জাপানির স্বীকৃতি দেওয়া এ প্রকাশনার উপলক্ষ্য। ১৯৭৩ সালের ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাপান সফর করেন, এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ১৬ বছর বয়সী কন্যা শেখ রেহানা এবং কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সফরের সময় জাপানি জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপরিহার্যতাকে প্রবলভাবে সমর্থন করে। ১৯৪৫ সালের নিজেদের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে জাপান। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে প্রদত্ত ব্যাঙ্কোয়েটে তখনকার জাপানি প্রধানমন্ত্রী তানাকা কাকুই ব্যক্তিভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এভাবেই জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম সহযোগী হয়ে উঠে। বঙ্গবন্ধু দুই দেশের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের দ্বার উন্মোচিত করলেন। তার সুদর প্রসারী লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমরা যমুনা সেতুসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছি। জাপান বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ প্রকাশনা নতুন এক মাইলস্টোন স্থাপন করল।

অনুষ্ঠানে স্কলার্স বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম ই চৌধুরী শামীম বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের সর্বোত্তম সাফল্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। তার একনিষ্ঠ সাধনা, দেশপ্রেম দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে নিজ আসন প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ বইটিতে আমরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে তুলে ধরেছি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষ্যে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে। বইটির পাঠক শিশু-কিশোর, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের ও উন্নতির স্বর্ণশিখরে। এই প্রথম জাপানি মাঙ্গা ভঙ্গিতে লিখিত ও অঙ্কিত পাঁচ পর্বের উল্লেখ্য গ্রন্থের প্রথম পর্ব এই বই। এই বইটির প্রথম পর্ব নিয়ে এ বছরেই এনিমেশন মুভি তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র জাপান। বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্বের পঞ্চাশ বছরের (১৯৭২-২০২২) প্রকাশনা এই বইতে দুই দেশের দুজন লেখকের বঙ্গবন্ধু বিষয়ে ভাবনাকে যূথবদ্ধ করা হয়েছে। বইটি রচনা ও প্রকাশনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানি দূতাবাস ও ম্যাক্স গ্রুপের সহযোগিতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ বইটির প্রকাশনা লগ্নে আমি স্মরণ করছি আমাদের জাতির পিতার ঐতিহাসিক জাপান সফরের কথা। স্মরণ করছি জাপান সরকার ও জাপানের জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধনের কথা। বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের অর্ধশতাব্দী পূর্তি সমাগত। এ শুভ  ‍মুহূর্তে বিশ্বের পাঠকের কাছে আমাদের প্রণয়-প্রীতির স্মারক এ বই পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রত্যাশা করছি দেশব্রতী নাগরিক নির্মাণে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ বইটি সর্বাত্মক সহায়ক হবে এবং দুই দেশের সংস্কৃতি বিনিময়েও ভূমিকা রাখবে।

জাপানি আর্ট ফর্ম 'মাঙ্গা' সম্পর্কে
জাপানিদের কমিক ও কার্টুন ধাঁচের চিত্রকলার একটি ফর্ম হচ্ছে ‘মাঙ্গা’। এটি ‘রিয়েলিস্টিক’ ফর্ম নয়, এমনকি এর সঙ্গে পাশ্চাত্য ধারার অন্য কোনো ফর্মের সম্পৃক্ততাও নেই। অত্যন্ত জনপ্রিয় এ ফর্মটি ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে এসে জাপানি চিত্র ও প্রকাশনা শিল্পে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। অভিযান ইতিহাস থেকে ফ্যান্টাসি, শিশুপাঠ থেকে বরণীয় ব্যক্তিত্বের জীবনী, লোককথা থেকে শুরু করে আধুনিক বাস্তব ও পরাবাস্তববাদী উপন্যাস, ইতিহাস থেকে শুরু করে রোমাঞ্চ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে শুরু করে রহস্যভেদী কাহিনি সবই অল্পকথায় এবং অসনাতন ছবিতে মাঙ্গায় মূর্ত হয়ে থাকে। 'ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু' বইটি মাঙ্গা ফর্মে প্রকাশের মধ্য দিয়ে চিত্রশিল্পের এ ফর্মটির সঙ্গে বাংলাদেশও পরিচিত হলো।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০২৩
টিআর/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।