ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

শিল্প-সাহিত্য

ইন্টারনেটের এ যুগেও সাহিত্য তার আকর্ষণ ও প্রয়োজন ধরে রেখেছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩২৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৪
ইন্টারনেটের এ যুগেও সাহিত্য তার আকর্ষণ ও প্রয়োজন ধরে রেখেছে

ঢাকা: ইন্টারনেটের প্রভাব আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন এনেছে। তথ্যের দ্রুত প্রাপ্তি, বিনোদন, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা- সবকিছুতেই ইন্টারনেটের প্রভাব স্পষ্ট।

তবে এই প্রযুক্তিগত উন্নতির যুগেও সাহিত্য তার আকর্ষণ ও প্রয়োজন ধরে রেখেছে এবং তা আরও দীর্ঘদিন থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্য বোদ্ধারা।

সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম ২০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে তিন দিনব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন আয়োজন করেছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনটি আলোচনায় উঠে আসে এসব বিষয়।  

বিকেল ৪টায় ‘কবিতা ও সাহিত্য– এসেছি কতদূর’ শিরোনামের আলোচনায় মূল বক্তব্য রাখেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস চিন্ময় গুহ। তিনি বলেন, দৃশ্য মাধ্যম ও ইন্টারনেটের প্রাবল্যের এ যুগেও সাহিত্য তার আকর্ষণ অথবা প্রয়োজনীয়তা ধরে রেখেছে। পাঠকরা বই কিনছেন, পড়ছেন, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সাহিত্য প্রতিভাবান কবি-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন- আলোচক কবি ও কথাশিল্পী মাহবুব সাদিক, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষক আহমাদ মোস্তফা কামাল। সভাপতি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আবুল মোমেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনায় ছিল- মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শ থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি কি না, হৃদয়ের মণিকোঠায় যে ঘটনাবলির স্থান থাকার কথা ছিল, তা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে কি না-  এসব প্রশ্ন।

এ আলোচনায় মূল বক্তা, ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ যুদ্ধ শুধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং বাঙালি ও অন্যান্য জাতিসত্তাও পুনর্নির্মাণ করেছে। আমাদের সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও আদর্শের বিষয়াবলি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক। কিন্তু এ ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দরকার দায়িত্ববোধ ও সঠিক পরিকল্পনা।

এ আয়োজনে আলোচক ছিলেন লেখক ও গবেষক সালেক খোকন, ও কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান। সভাপতিত্ব করেন লেখক, গবেষক ও প্রকাশক মফিদুল হক।

সন্ধ্যা ৭টায় আলোচনার বিষয় ছিল- নাটক-চলচ্চিত্র – নতুন কতটুকু নতুন। পরিবেশনা ও নির্মাণে চূড়ান্ত আধুনিকতার সময়ে পা রাখা মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্র এ দুই মাধ্যম দর্শক-বোদ্ধাদের মননে কতটা ছাপ ফেলছে, কতটা এগিয়েছে, সেসব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার প্রয়াস ছিল এ আলোচনায়। মূল বক্তা ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক মতিন রহমান। আলোচক ছিলেন- চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ পথিক এবং নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক রুমা মোদক। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও অনুবাদক আব্দুস সেলিম।

বাংলাদেশ সময়: ২৩২১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৪
এইচএমএস/আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।