ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

বইমেলা

বসন্ত-ভালোবাসায় বিক্রি বেড়েছে বইমেলায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩
বসন্ত-ভালোবাসায় বিক্রি বেড়েছে বইমেলায় ছবি: জিএম মুজিবুর

ঢাকা: প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন পরিবর্তন করে দেয় সবকিছু। ফুরফুরে হাওয়ায় মানব হৃদয়ে জেগে ওঠে ভালোবাসার পরশ।

সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ আর বসন্তের নতুন দিনের উচ্ছ্বাসে সবাইকে করেছে আবেগী। বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনে বসন্ত আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে একই দিনে। উৎসবপ্রিয় বাঙালির দিবস দুটি উদযাপনের বড় ক্ষেত্র এখন প্রাণের বইমেলা। বিশেষ দিনকে স্মৃতিময় করে রাখতে উপহার হিসেবে প্রিয়জনের হাতে বই তুলে দিচ্ছে অনেকেই।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বইমেলার দ্বার উন্মোচন হয় বিকেল ৩টায়। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্তবরণ করতে আসা অনেক বইপ্রেমী আগে থেকেই মেলার প্রবেশ মুখে অপেক্ষা করছিলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দায়িত্বরত পুলিশের তল্লাশি শেষে মেলায় প্রবেশ করছেন বিভিন্ন বয়সী পাঠক। রংবেরঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে এসেছেন দর্শনার্থীরা। মাথায় ফুলের টায়রা, গালে রং তুলির আচড়ে ‘শুভ বসন্ত’ লিখে প্রিয়জনদের হাত ধরে অনেক তরুণী প্রবেশ করেছেন মেলায়। বই কিংবা ভালোবাসার টানে আসা আজ দর্শনার্থীদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী হলেও বাকিদের মাঝেও ছিল ফাগুনের উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা। অভিভাবকদের হাত ধরে আসা আগামীর পাঠকরাও শিশু চত্বর থেকে সংগ্রহ করেছে তাদের প্রিয় সব বই।

প্রেমিক যুগলদের বই কেনার পাশাপাশি খুনসুটিতেও মেতে উঠতে দেখা যায়। অনেকেই পরস্পরকে পছন্দের বই কিনে উপহার দিয়ে দুই-এক লাইন লিখে দিয়ে ভবিষ্যতের স্মৃতি জমিয়েছেন। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বই বিক্রেতাদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। তবে এ দিন ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে মানুষ নানা ব্যস্ততা ভুলে এসেছেন বইমেলায়। কিনেছেন পছন্দের বই, আবার উপহারও দিয়েছেন প্রিয় উপন্যাস কিংবা কবিতার বই। প্রিয়জনের হাত ধরে বইমেলায় আসার স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দি করেছেন সেলফি তুলে।



প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মিরপুর থেকে বইমেলায় এসেছেন লামিয়া বিনতে কামাল। নিজেকে বইপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে আমরা অন্য যেকোনো জায়গায় যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা বইমেলায় এসেছি। ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে ভালোবাসি। এখনো পড়ি। নিজের জন্য ও উপহার দেওয়ার জন্য বই কিনব আজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াজ রহমান এসেছেন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আজ আমরা সবাই পাঞ্জাবি আর মেয়েরা শাড়ি পরে ক্লাস করেছি। ক্লাস শেষে বইমেলায় আসলাম। বসন্তে বইমেলায় আসব না তা হয় না। এখানে সবাই হয়তো বই কিনবে না। বই কেনা মুখ্য বিষয় নয়। সবাই আসছে, বই দেখে আর অন্যকে বই কিনতে দেখে নিজেরাও উৎসাহিত হবে বই পড়তে ও কিনতে পারে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলা একাডেমির উভয় অংশে বইপ্রেমী আর দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মেলার উদ্যান অংশের লেকের পাশে বসে অনেকে গল্পও জুড়ে দিয়েছেন। সদ্য জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এসেছিলেন প্রিয়জনের জন্য বই কিনতে। জার্নিম্যান বুক্স থেকে কিনেছেন ‘সিম্পনি বিদেশী প্রেমের কবিতা’।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, বই আর ফুল হচ্ছে ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাই প্রিয়জনের পছন্দ অনুযায়ী কবিতার বই নিলাম।

জানতে চাইলে আগামী প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মী সজিব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বসন্তের প্রভাব বইমেলায় অবশ্যই পড়েছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি থাকে। তবে আজকে ছুটির দিনের চাইতেও বেশি ভিড়। বইয়ের বিক্রি যেমনই হোক। মানুষ এসে বই নেড়েচেড়ে দেখছে, দাম জিজ্ঞাসা করছে এটাই আনন্দের।

বাংলা একাডেমির বিক্রয় কর্মী পার্থ সরকার বলেন, বসন্তের প্রভাব বইমেলায় বেশি পড়েছে, বইয়ের ওপর কম পড়েছে। আজ দর্শনার্থী ও পাঠকের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে বেশির ভাগ দর্শনার্থী মূলত সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে বইমেলায় এসেছেন। তাই দর্শনার্থীর তুলনায় বিক্রি কম। তবে অন্যান্য দিনের চাইতে বিক্রি বেশি।

বাংলাদেশ সময়: ২২১৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩
এসকেবি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।