ঢাকা, রবিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ মে ২০২৪, ১০ জিলকদ ১৪৪৫

জলবায়ু ও পরিবেশ

সব বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির আভাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০২৩
সব বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির আভাস ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রায় ২০ দিন পর দেশের সব বিভাগেই কেটেছে তাপপ্রবাহ। তবে বেড়েছে বজ্রঝড়ের প্রবণতা।

রোববার (২৩ এপ্রিল) সিলেট বিভাগে নয়জন বজ্রপাতে মারা যান। এদের নয়জনের মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতকে তিনজন, দোয়ারাবাজারে দুজন ও তাহিরপুরে একজন, মৌলভীবাজারে দুজন ও সিলেটে একজন মারা যান।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, সোমবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ঢাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম/দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা অস্থায়ীভাবে দমকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে যেতে পারে।

আগামী দু'দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। বর্ধিত পাঁচদিনে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

অন্য এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল থেকে দেশের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ শুরু হয়, যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে গত নয় বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ১৮ এপ্রিল থেকে কমতে শুরু করে, ২৩ এপ্রিল এসে পুরোপুরি কেটে যায়।

গত ১৭ এপ্রিল আগের নয় বছরের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঈশ্বদীতে, ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল আগের ৫৮ বছরের মধ্যে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ, ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ১৯৬৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে ১৯৬০ সালে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৯৭৫ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ রেকর্ড এখনো ভাঙেনি।

আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল চলতি মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রিতে ওঠতে পারে। আর তাপপ্রবাহ কেটে যাবে ২৩ এপ্রিলের দিকে।

রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সন্দ্বীপে ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে ৫৩ মিলিমিটার। ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ সময়' ২১০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০২৩
ইইউডি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।