ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ বৈশাখ ১৪৩১, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

ক্রিকেট

ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিয়ে গেল বাংলাদেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, স্পোর্টস | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০২৪
ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিয়ে গেল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম থেকে: শেষ বলটা খেলতেই যেন স্বস্তি খুঁজে পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুলের পিঠ চাপড়ে হাঁটা ধরলেন ড্রেসিংরুমের দিকে।

যদিও তার জানা, কেবলই আরও একটি দিন বাড়তি খেলা গড়ানোর কৃতিত্ব তাদের। সামনে অপেক্ষায় অনেকটা নিশ্চিত হার।  

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৫৩১ রান করে বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১৭৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে লঙ্কানরা। ৫১১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রান করেছে স্বাগতিকরা।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে মাঠে নামে শ্রীলঙ্কা। এদিন সকালেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। প্রবাথ জয়াসুরিয়াও তাকে সঙ্গ দেন দারুণভাবে।  

মিডল স্টাম্পে পড়ার পর টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলটি পেছনের পায়ে ভর করে খেলতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন ম্যাথিউস। ফিফটি করা শ্রীলঙ্কান ব্যাটার বোল্ড হন সাকিব আল হাসানের বলে। চতুর্থ দিনে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য।  

এরপর ইনিংস ঘোষণা করে দেন লঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ৫১১ রানের বিশাল লক্ষ্য। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতিহাস গড়েই তাই জিততে হবে বাংলাদেশকে। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪১৩ রান বাংলাদেশের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ।  

সেশনের বাকি সময়ে ৮ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশ, করেছে ৩১ রান। এর মধ্যেই প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন জাকির হাসান। ২৪ বলে তার রান ১১। মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত আছেন ২৪ বলে ১৯ রানে।  

প্রথম সেশনে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয়টিতে গিয়ে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে। প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে পিছিয়ে গিয়ে কাট করতে গিয়েছিলেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু তিনি শট খেলেন দেরিতে, হয়ে যান বোল্ড। ৩২ বলে ২৪ রান আসে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে।  

পাঁচ ওভার পর আরেক ওপেনার জাকির হাসানও আউট হন। ৩৯ বলে ১৯ রান করে স্লিপে ক্যাচ দেন বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে। ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে রান পাননি এই ম্যাচেও।  

৫৫ বলে ২০ রান করে লাহিরু কুমারার দুর্দান্ত বলে হয়ে যান বোল্ড। আশার আলো হয়েছিলেন কেবল মুমিনুল হক। এই ব্যাটার তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরিও। কিন্তু চা বিরতির আগেই সাজঘরে ফিরে গেছেন তিনি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ বলে ৫০ রান করে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন মুমিনুল।  

শেষ সেশনে এসে আরও তিন উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। মাঝে সাকিবের সঙ্গে ৫০ পেরোনো জুটি হয় লিটন দাসের। ৩ চারে ৫৩ বলে ৩৬ রান করে সাকিব আউট হন কামিন্দু মেন্ডিসের বলে। এদিনই প্রথমবারের মতো টেস্টে বল তুলে নেওয়া কামিন্দুর বলে লেগ সাইডে প্রায় ঘাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মাদুশকার হাতে।  

এই সিরিজে আরও একবার ব্যর্থ হন লিটন দাস। লাহিরু কুমারার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। শেষ বিকেলে আউট হন শাহাদাৎ হোসেন দীপুও। ৩৪ বলে ১৫ রান করে কামিন্দু মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।  

তবে দিনের বাকি সময়টা তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭ চারে ৪৯ বলে ৪৪ রান করেছেন মিরাজ। ১৪ বলে ১০ রান করে তার সঙ্গী তাইজুল।  

বাংলাদেশ সময় : ১৭৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০২৪
এমএইচবি/এএইচএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।