ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

গরুর নাচনে খুশি হাজারো দর্শক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০২৩
গরুর নাচনে খুশি হাজারো দর্শক ক্যাটেল এক্সপোর আকর্ষণ ছিল ফ্যাশন শো। ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: দেশি-বিদেশি নানা জাতের বড় বড় ষাঁড়। একেকটির বাহারি সাজ।

কোনোটা মাথা নেড়ে শিং উঁচিয়ে আসছে তেড়ে। কোনোটা আবার শান্ত, আদর করতেই চোখ বন্ধ।
শান্ত, দুষ্টু দুই ধরনের ষাঁড়ের ফ্যাশন শো মুগ্ধ করেছে হাজারো তরুণকে। তাদের প্রধানতম আকর্ষণ ছিল গরুর ফ্যাশন শো আর সংগীতানুষ্ঠান। গরু দেখে কম খুশি হয়নি ছোট্ট সোনামণিরাও।  

বেশিরভাগ বড় গরুই ছিল ব্রাহমা, শাহীওয়াল, নেপালি জাতের। ছিল রেড কাউ বা রেড চিটাগাং ক্যাটেল (আরসিসি), ভুটানের ছোট জাতের ভুট্টিও। খামারিরা একেকটি গরুর নাম রেখেছেন জনপ্রিয় তারকাদের নামে। নতুন খামারিরা গরুর বিভিন্ন জাত, লালন-পালন, খাবার, ওষুধপত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একটি স্টলে ছিল উন্নতজাতের গাভি ও বাছুর।  

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) শেষ বিকেলে আউটার স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ক্যাটেল এক্সপোর চিত্র ছিল এমনই। ‘গরু আইয়্যেদে শিনা ফুলাইয়্যা...’ থিম সং ছিল চট্টগ্রাম ক্যাটল ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ প্রদর্শনীর। এবার ৩৮টি অ্যাগ্রো ফার্মের সেরা গরু প্রদর্শিত হয়েছে। শেষ বিকেলে টিকিট না পেয়ে নারীসহ প্রচুর দর্শক ফিরে গেছেন।  

উদ্যোক্তারা জানান, নিকট অতীতে কোরবানির সময় ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধভাবে পশু আসতো। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হতো। আনন্দের বিষয় যে, শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা খামারি খাতে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রাণিজ আমিষ জোগানে দেশ অনেকখানি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত তরুণ আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের এই খাতে নিবেদিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে প্রাণিত করেছেন। এজন্য তাঁকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।

সকালে উদ্বোধন পর্বে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য্য ডা. এএসএম লুৎফুল এহসান। বিকেলের অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী। উদ্বোধন করেন চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দোলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।  

বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক উপাদানে গরু মোটাতাজাকরণ যথেষ্ট খাদ্যবান্ধব এবং পুষ্টিতে ভরপুর। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো সামষ্টিক প্রণোদনায় উদ্যোক্তাদের প্রাণিত করা এবং প্রাকৃতিক উপাদানে মোটাতাজাকরণ এবং মাংসজাত প্রাণীর লালন পালনকে সাধারণের মধ্যেই জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তোলা। গরু পালনে বেকাররা এগিয়ে এলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে মাংস রফতানি করতে সক্ষম হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ২১৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০২৩
এআর/পিডি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।