ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮ শাবান ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আটাশে চবিসাস, প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস 

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৭, ২০২৩
আটাশে চবিসাস, প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস  ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ১০ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনটির এবারের স্লোগান ‘আটাশে চবিসাস, প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস’।

 

বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চাকসুর সামনে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।  

চবি সাংবাদিক সমিতির দীর্ঘ এ যাত্রা যেমন গৌরবের, তেমনি ছিলো কঠিন।

কিছু সাহসী সাংবাদিকের হাত ধরে গোড়াপত্তন হয়েছিল এ সংগঠনের। বিভিন্ন সময় হুমকি-ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এগিয়েছে চবিসাস।  

চবিসাসের সাংবাদিকদের কলমে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, দুর্নীতি ও অনিয়ম। এমনকি সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় ২০১৪ সালে মামলাও হয়েছিল সমিতির তৎকালীন অর্থ সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। এছাড়া চলতি বছরেও অন্তত ৪ বার সাংবাদিকরা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে এসব মামলা-হামলায় কখনোই দমে যায়নি চবিসাস। বরং আন্দোলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সময়োপযোগী ভূমিকা রেখেছে প্রতিটি ঘটনায়।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতায় অপরাধ, রাজনীতি, পরিবেশ, বাণিজ্য, গবেষণা, আইন, উদ্ভাবনসহ জাতীয় প্রেক্ষাপটের প্রায় সব বিষয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ হয় হাতে-কলমে। হুমকি, চাপ কিংবা আনন্দ- সব অভিজ্ঞতাই হয় এখানে। বলা যায়, ছাত্রজীবনে অন্য যেকোনও পেশায় গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ছোট ছোট হাতগুলোই গড়ে তোলে বিচিত্র সব স্বপ্ন। যে স্বপ্নের ডানায় ভর করে চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী।

২৭ বছর ধরে ব্যালট-ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ করে আসছে চবিসাস। প্রতিবছর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সংবিধান অনুযায়ী এক বছর আগে সমিতির সদস্য পদ লাভ করেছেন এমন সকল সদস্যই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

১৯৯৭-৯৮ সেশনে সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন আহমেদ করিম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবদুল মালেক। বর্তমানে সমিতির ২৪তম কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। চবিসাসের বর্তমান সভাপতি মাহবুব এ রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু। এ সংগঠনের রয়েছে সাত সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ। সমিতির বর্তমান সদস্য ৩১ জন। দেশসেরা প্রায় সকল পত্রিকা এবং নিউজ এজেন্সিতে কাজ করছে চবিসাসের সদস্যরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে পদাধিকারবলে দায়িত্বে থাকেন চবি উপাচার্য। বর্তমানে চবিসাসের প্রধান উপদেষ্টা চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এছাড়াও পদাধিকারবলে চবিসাসের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন- চবি উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি, তথ্য শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার, সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে মনোনীত দুইজন সদস্য।  

বর্তমানে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টালসহ প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রয়েছে এ সমিতির সদস্যরা। কেউ কাজ করছেন ব্যুরো প্রধান হিসেবে, কেউ আছেন নিউজ এডিটর আবার কেউ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কিংবা নিজস্ব প্রতিবেদক।  

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিজের অনুভূতি জানিয়ে চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক ইমাম ইমু বলেন, আজকের এ দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের অগ্রজ কলম সৈনিকদের। যাদের সাহসী পদক্ষেপে চবিসাস এ জায়গায় পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মহান স্বাধীনতার চেতনা ও প্রগতিশীল ভাবধারা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদচর্চা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করে আসছে চবিসাস। সমিতির ভবিষ্যৎ আরও মসৃণ এবং সুন্দর হোক- এটাই প্রত্যাশা।

চবিসাসের সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, সকলের প্রতি রইলো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা। ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছরে পা রেখেছে চবিসাস। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমিতির সাবেক ও বর্তমান সকল সদস্যের অংশগ্রহণে এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে আশাকরি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭, ২০২৩
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।