ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ফুলবিউতে হারগোজা ফুল-নিমপাতার মালায় সাজছে ঘর

নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০২৪
ফুলবিউতে হারগোজা ফুল-নিমপাতার মালায় সাজছে ঘর ...

চট্টগ্রাম: চৈত্র মাসকে বিদায় জানিয়ে বৈশাখকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সনাতন সম্প্রদায়। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) ফুলবিউতে হারগোজা (বিউ) ফুল আর নিমপাতার মালায় সাজানো হচ্ছে ঘর।

গ্রামাঞ্চলে বাড়ির উঠোনসহ চারপাশে পড়ছে গোবরের প্রলেপ, ঝোপঝাড় থেকে আনা ভাঁটসহ হরেক ফুলের মালা টাঙ্গানো হচ্ছে দরজা-জানালায়।

নবযুগ পঞ্জিকা মতে, শনিবার (১৩ এপ্রিল) মুলবিউ, রোববার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেবেন সনাতনীরা।

একইসঙ্গে চলবে নাড়ু ও পাচন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন।

পহেলা বৈশাখে ভোর হতেই স্নান সেরে নতুন কাপড় পরিধান করে ব্যবসায়ী ও দোকানিরা ব্যস্ত থাকেন হালখাতা খোলার কাজে। লক্ষ্মী ও গণেশের পূজার্চনা শেষে হলুদ আর সিঁদুরমাখা মুদ্রার ছাপ দেওয়া হয় লাল শালুতে মুড়িয়ে রাখা নতুন হালখাতার প্রথম পৃষ্ঠায়। ‘ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ কিংবা স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা এই হিসেবের খাতাটাই নতুন বছরের আয় ও সমৃদ্ধির প্রতিভূ। ফুল, কলাগাছ, আম্রপল্লব দেওয়া মঙ্গল ঘট দিয়ে সাজানো দোকানগুলোয় পরিচিত ও বাঁধা গ্রাহকদের জন্য মিষ্টিমুখের আয়োজনও চলে এদিন।  

নগরের হাজারী লেইন, বকশিরহাট, দেওয়ানজী পুকুর পাড়, হেমসেন লেইন সহ কাঁচাবাজারগুলোতে নিমপাতা ও হারগোজা (বিউ) ফুল আড়াইশ গ্রাম ১২৫ টাকা, কনডেন্সড দুধের ছোট এক কৌটাভর্তি ফুল ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্দরকিল্লা এলাকায় ফুটপাতে বসে নিমপাতা ও ফুল বিক্রি করছেন জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, বোয়ালখালী থেকে এসব ফুল ও নিমপাতা সংগ্রহ করেছেন।  

একইসঙ্গে বিক্রি হচ্ছে পাচন রান্নার উপকরণ। স্থানীয়ভাবে পরিচিত কাট্টইস, কাঁচা কাঠাল, তারা, ডুমুর, পুঁতি বেগুন, কলা গাছের অলি, গিমাশাক, চালকুমড়া, কাঁচা আম, কাঁচা কলা, সজনে ডাটা, গাজর, লাউ, তিত করলা, টমেটো, ঢেঁড়স, কচুর ছড়া, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, শালগম, শসা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা ও তদুর্ধ্ব দামে।  

নগরের বকশিরহাটে নাড়ুর দোকানগুলোতেও চলছে বিকিকিনি। বাকলিয়া ও বলুয়ার দিঘীর পাড় এলাকার কারখানায় তৈরি মোয়া-নাড়ু এখানকার দোকানগুলোতে মজুদ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- খইয়ের নাড়ু, নারকেলের নাড়ু, জিরার নাড়ু, বরই নাড়ু, মুড়ি ও চিড়ার মোয়া, গুড় মেশানো খই, মুড়ি, চিড়া, তিলের নাড়ু, ঘস্যার টপি, বাদামের টফি, চানাচুর, মটর ভাজা, ছাতু (খইয়ের গুঁড়ো), বাতাসা ও আটকরই। আটকরইয়ে আছে মুড়ি, বুট, বাদাম, মিষ্টি জিরা, মিষ্টি কুমড়োর বিচি, শিম বিচি, মুগ বা খেসারি ডাল ও ভুট্টা। একসময় গ্রামে ঢেঁকিতে বানানো এসব নাড়ু এখন রেডিমেইড পাচ্ছেন নগরবাসী।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০২৪
এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।