চট্টগ্রাম: ছাত্রশিবিরকে ক্যাম্পাস ছাড়া করার পর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রলীগ। তিন দশক পর ছাত্র সংসদের দেয়ালে লাগানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।
এর আগে কলেজ জুড়ে সংগঠনের ব্যানারও লাগিয়েছে ছাত্রলীগ। চিকাও লেগেছে কলেজের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি’র নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ছাত্র সংসদে প্রবেশ করেন। ছাত্র সংসদের দরজায় ফুলে ফিতা কাটেন রনি। এরপর তিনি ছাত্র সংসদের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি তুলেন।
নূরুল আজিম রণি বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র সংসদ শিবিরের সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের দখলে ছিল। জাতির জনকের ছবি দূরের কথা, নাম উচ্চারণ পর্যন্ত করা যেতনা। আমরা সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে আজ ছাত্র সংসদে প্রবেশ করেছি। সেখানে জাতির জনক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি তোলা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করছি।
এর আগে বিতাড়নের তিন দশক পর ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে।
বিজয় দিবসে চট্টগ্রাম কলেজে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে শিবিরের কাছ থেকে হামলার শিকার হয় ছাত্রলীগ। হামলার পর ছাত্রলীগের কয়েক’শ নেতাকর্মী কলেজ ঘিরে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে এর আগে ছাত্রলীগ, শিবির এবং পুলিশ ত্রিমুখী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘাতের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গেইট ভেঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে বিভিন্ন ভবনে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিবির কর্মী সন্দেহে অন্তত ৬৬ জনকে আটক করে। সংঘাতের কারণে চট্টগ্রাম কলেজে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা পন্ড হয়ে যায়। শিবিরের হামলায় নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিসহ কয়েকজন আহত হন। রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ও এর সামনাসামনি মহসিন কলেজের সব হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সাবেক ছাত্রনেতা ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বাংলানিউজকে জানান, আশির দশকের শুরু পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজ প্রগতিশীল শক্তির ঘাঁটি ছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে শিবির যখন রাজনীতি আরম্ভ করে, শুরু থেকেই তারা চট্টগ্রাম কলেজকে টার্গেট করে। ১৯৮১ সালের চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস ও ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে শিবিরের ক্যাডাররা নির্মমভাবে হত্যা করে। শান্ত ক্যাম্পাসে শিবিরের খুনের রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সঞ্চার করে। শিবিরের অস্ত্রবাজিতে আর খুনের রাজনীতিতে ছাত্রলীগ, বাকশালপন্থী জাতীয় ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ১৯৮৪ সালের রাতের আঁধারে হোস্টেলে দু’জন মেধাবী ছাত্রকে জবাই করে খুন করে শিবির।
এরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয় প্রগতিশীল শক্তি। নিয়ন্ত্রণ নেয় শিবির। শুধু চট্টগ্রাম কলেজ নয়, পাশের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজও শিবিরের দখলে চলে যায়। এরপর ছাত্রলীগ কিংবা অন্যান্য নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলো কখনোই আর চট্টগ্রাম কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি বলে জানান সুজন।
তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজে শাখা কমিটি গঠন করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও বারবার শিবিরের কাছ থেকে বাধা পেয়েছে। ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মী শিবিরের হামলার শিকার হওয়ার কথাও বিভিন্ন সময় এসেছে গণমাধ্যমে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৫
আরডিজি/টিসি