ঢাকা, সোমবার, ২২ মাঘ ১৪২৯, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪ রজব ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবির ২০২০-২১ ভর্তি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ায় যত কাণ্ড

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০২২
চবির ২০২০-২১ ভর্তি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ায় যত কাণ্ড ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা এবং ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যন্ত ঘটেছে নানান ঘটনা।

এর মধ্যে পরীক্ষা না দিয়েও পাস, জালিয়াতির অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, ফেল করেও বিষয় নির্বাচনের সুযোগসহ পুরো ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চবির ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা।

 

ফেল করেও বিষয় নির্বাচনের সুযোগ

চবির ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় একাধিক ইউনিটে ফেল করেও বিষয় নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে দিপক কুমার রয় এবং মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ‘বি’ ইউনিটে এবং ‘রায় রয়’ নামের একজন শিক্ষার্থী ‘এ’ ইউনিটে ফেল করেও পেয়েছেন বিষয় নির্বাচনের সুযোগ।

জাবিতে জালিয়াতি করে আটক, বেরিয়ে আসে চবির দুজনের নাম

গত ১ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে পাস করা মোস্তফা কামালের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে চবির ‘ডি’ ইউনিটে একই উপায়ে পাস করা তার দুই বন্ধু মো. ফরহাদ ও আশিক হোসাইনের নাম। মেধা তালিকায় যাদের স্থান ৭৯তম (রোল ৪৪১৩৬৭) ও ২৪৯তম (রোল ৪১৬২৩১)। তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শামীমের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা চুক্তিতে এ জালিয়াতি করেন।

জালিয়াতির অভিযুক্তদের বিষয়ে নেই সিদ্ধান্ত

জাবিতে জালিয়াতি করে পাস করা মোস্তফা কামালের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসা চবির ‘ডি’ ইউনিটে একই উপায়ে পাস করা মো. ফরহাদ ও আশিক হোসাইনের নাম, রোল এবং মেধাতালিকার যাবতীয় তথ্য মিললেও এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ৫ ডিসেম্বর ভর্তি কমিটির সভাতেও এ বিষয়ে হয়নি কোনও আলোচনা।  

ভর্তি জালিয়াতির অভিযুক্তরা পেয়েছেন বিষয়

চবির ‘ডি’ ইউনিটে জালিয়াতি করে পাস করা অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন বিষয়। বিষয় নির্বাচনের প্রথম তালিকায় ‘ডি’ ইউনিটে ৭৯তম হওয়া (রোল ৪৪১৩৬৭) মো. আশিক হোসাইন পেয়েছেন আইন বিভাগ। আর ২৪৯তম হওয়া (রোল ৪১৬২৩১) মো. ফরহাদ হোসাইন পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগ।  

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে বিলম্ব

গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় চবির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। তবে অন্য ইউনিটগুলোর মতো যথাসময়ে ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি ‘ডি’ ইউনিট। একাধিকবার ফলাফল ঘোষণার কথা বললেও নানা নাটকীয়তায় ৭ দিন পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘ডি’ ইউনিটে ফলাফলে গড়মিল হওয়ায় এমন কাণ্ড ঘটেছে।

অ্যান্টিপ্রক্সি অ্যাপের নামে সাধারণ কিউআর কোড ব্যবহার

ভর্তি জালিয়াতি রোধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি অ্যান্টিপ্রক্সি অ্যাপটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এক বছর না যেতেই চবির ২০২০-২১ ভর্তি পরীক্ষায় আর ব্যবহার করা হয়নি এই অ্যাপ। যদিও নামেমাত্র অ্যাপটির ব্যবহার দেখানোর জন্য প্রবেশপত্রে বসানো হয়েছে সাধারণ কিউআর কোড (QR code)। এর আগে ২০১৯-২০ সেশনে ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের জালিয়াতি রোধে চবির আইসিটি সেল ও আগামী ল্যাবসের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছিল অ্যান্টিপ্রক্সি অ্যাপ।

ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েও উত্তীর্ণ

চবির ডি-১ উপ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও উত্তীর্ণের তালিকায় নাম আসে এক পরীক্ষার্থীর। ৫ নভেম্বর ডি-১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষার পর ৬ নভেম্বর রাতে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। যেখানে আফসারা তাসনিয়াকে (রোল ৪৯২৫৬১) উত্তীর্ণ হওয়ার বার্তা পাঠানো হয়। তবে আফসারা তাসনিয়া ওই পরীক্ষায় অংশই নেননি।  

ভর্তি পরীক্ষার ২২ দিন পরও বিষয় নির্বাচনে ভোগান্তি

চবির ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২২ দিন পর বিষয় নির্বাচনের (সাবজেক্ট চয়েস) নোটিশ দিলেও যথাসময়ে বিষয় নির্বাচন ফরম পূরণ করতে পারেননি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। ২৮ নভেম্বর সকাল থেকে চবির বিভিন্ন ইউনিটে বিষয় নির্বাচন ফরম পূরণ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন শিক্ষার্থীরা। অথচ ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৪ দিনের মধ্যেই বিষয় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল চবিতে।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক

‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়েন মাসুদ সরকার নামে একজন। জুলকারনাইন শাহী নামের এক পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে গাইবান্ধার বাসিন্দা মাসুদ সরকার এ পরীক্ষায় অংশ নেন।

ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন-অনুপস্থিতিতে রেকর্ড

চবির ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে এবার আবেদন করেন রেকর্ড সংখ্যক ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী। তবে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হারও ছিল অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। ৫ ইউনিট ও ২ উপ-ইউনিটে মোট অনুপস্থিত ছিলেন ৬১ হাজার ৬৮৬ জন। গড়ে প্রতি ইউনিটে অনুপস্থিতির হার ৩৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ অনুপস্থিত ডি-১ উপ-ইউনিটে ৫৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সর্বনিম্ন অনুপস্থিত ‘সি’ ইউনিটে ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ।

ধর্মঘটের মধ্যে পরীক্ষা, অনুপস্থিত অর্ধেকের বেশি

ভর্তি পরীক্ষার শেষদিন (৫ নভেম্বর) দুই উপ-ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হয় পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে। ধর্মঘটের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চললেও বি-১ ও ডি-১ উপ-ইউনিটে দেখা যায়, অনুপস্থিতির হার ছিল অর্ধেকের বেশি। বি-১ উপ-ইউনিটে অনুপস্থিতির হার ছিল ৫৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একইভাবে ডি-১ উপ-ইউনিটেও অনুপস্থিত ছিলেন ৫৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষার্থীর অভিভাবককে মারধর

চবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন (২৮ অক্টোবর) এক অভিভাবককে মারধর করেন চবির নিরাপত্তাকর্মী মো. মিলন হোসেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিভাবক মো. রেজাউল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও কয়েক ঘণ্টা পর অজ্ঞাত কারণে অভিযোগটি প্রত্যাহার করেন ওই অভিভাবক। মারধরের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩২০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৬, ২০২২
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa