ঢাকা, সোমবার, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪ রজব ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ভোটচুরির ষড়যন্ত্র পুনরায় শুরু হয়েছে: আমির খসরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২২
ভোটচুরির ষড়যন্ত্র পুনরায় শুরু হয়েছে: আমির খসরু বক্তব্য দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না, খালেদা জিয়াকে মুক্ত আমরা করব।

কার কাছে মুক্তি চাইব? একটা অবৈধ, অনির্বাচিত, দুর্নীতিবাজ, দালাল সরকারের কাছে? খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব আন্দোলনের মাধ্যমে। আগামী নির্বাচনে ভোটচুরির ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
সব ভোট চোররা আজ একজায়গায় যুক্ত হয়েছে।  

বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশে কর্ণফুলী সিডিএ আবাসিক মাঠে কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের মানুষের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- সরকারের বিরুদ্ধে নাকি দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আসলে ষড়যন্ত্র মূলত করছে আওয়ামী লীগ। আবার এদেশের মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।  এই সরকার তাদের কাছে আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা চাইতে পারি না। আগে তাদের পতন ঘটাতে হবে। পতনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী। গুম-খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিএনপির নেতারা জেলে পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে।  

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৪৪ ধারায় কোনো কাজ হবে না। ১৪৪ ধারার দিন শেষ হয়ে গেছে। কথায় কথায় অনুমতি দিয়ে জনসভা করার দিনও শেষ হয়ে গেছে। আগামী দিনে এই বাঁধ ভাঙা জোয়ার রুখার কারও কোনো শক্তি নাই। সব বাংলাদেশ আজ ঐক্যবদ্ধ, একতাবদ্ধ। রাজনৈতিকভাবেও ঐক্যবদ্ধ, একতাবদ্ধ। ওমিক্রন কোভিডের জন্য নাকি সমাবেশ বন্ধ করতে হবে। ওমিক্রন নয়, আসল রোগ অন্য জায়গায়। রোগ হচ্ছে, সরকার পতনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। ওমিক্রনের নাম দিয়ে ১৫-২০ দিন ঠেকাতে পারবেন, না হলে এক মাস ঠেকাতে পারবেন। পতন কিন্তু হবেই হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেছেন, বীর চট্টলার মানুষ বিগত ১২টি বছর সরকারের অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছেন। কিন্তু এই বার বছরে বিএনপি'র একটি লোকও অন্যদলে যান নাই। আজকে গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। প্রশাসন দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে কিন্তু পারেনি।  

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, বিএনপির আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে, চট্টগ্রামবাসী শেখ হাসিনার সরকারকে এক মুহূর্তও ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই সমাবেশের দাবি, বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। যদি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে চট্টগ্রামকে অচল করে দেওয়া হবে। আমরা ঘরে বসে থাকবো না। দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।  

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মোস্তাক আহমেদ খান ও আহবায়ক কমিটির সদস্য এসএম মামুন মিয়ার যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দীন, নগর বিএনপি'র সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুনুর রশীদ ভিপিসহ প্রমুখ।

>> দক্ষিণ জেলা বিএনপির সমাবেশে দুইপক্ষের মারামারি

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২২
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa