ঢাকা, শনিবার, ২৮ বৈশাখ ১৪৩১, ১১ মে ২০২৪, ০২ জিলকদ ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আলমগীরের জবানবন্দি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৩ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০২২
ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে আলমগীরের জবানবন্দি আলমগীর মিয়া

চট্টগ্রাম: নগরের হালিশহর থানার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১৪) হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আলমগীর মিয়া ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে নগরের হালিশহর থানা পুলিশ আলমগীর মিয়াকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আলমগীর মিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হওয়ার পরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

গ্রেফতার আলমগীর মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল মামুন বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন।  

আদালত সূত্র বলছে, আসামি আলমগীর মিয়া পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার করার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন। সেদিন যা যা ঘটেছিল, তা সবিস্তারে আদালতকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাতে সদর দফতর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৭ এর অভিযানে মানিকগঞ্জ থেকে আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (১৬ মার্চ) রাতে র‌্যাব আলমগীরকে হালিশহর থানায় হস্তান্তর করে।  

গ্রেফতার আলমগীরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন আলমগীর। ঘটনার দিন সকালে ওই স্কুলছাত্রী কোচিং শেষে বাসায় আসে। তখন আলমগীর কৌশলে তাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় স্কুলছাত্রী তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ধর্ষণকারীকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ধর্ষকের হাতের আঙুলে কামড় দেয় এবং তার বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলমগীর ওই স্কুলছাত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাসায় খাটের নিচে রেখে পালিয়ে যায়।

বাসা থেকে বের হয়ে আলমগীর তার স্ত্রী যে গার্মেন্টেসে কাজ করে সেখানে যান। এলাকায় একজনের সঙ্গে তার মারামারি হয়েছে এমন তথ্য জানিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে হালিশহর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

গ্রেফতার আলমগীরের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আলমগীর আগে গার্মেন্টসে কাজ করত, বর্তমানে বেকার।  দুটি বিয়ে করেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তিন মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে হালিশহরে বসবাস শুরু করেন। তার স্ত্রীও একজন গার্মেন্টস কর্মী। বর্তমানে কাজ না থাকায় বাসাতেই থাকত। ঘটনার পর পালিয়ে প্রথমে ধামরাই পরবর্তীতে সাভার, রাজবাড়ী ও সর্বশেষ মানিকগঞ্জ এলাকায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মগোপন করেছিল আলমগীর।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৩ মার্চ) রাতে হালিশহর থানার আলী শাহ মাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা আলমগীরকে আসামি করে হালিশহর থানায় মামলা করেছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩২ ঘণ্টা, মার্চ ১৭, ২০২২
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।