ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ শাবান ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

আখ সংকটে নাটোর চিনিকলের মাড়াই শেষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৭, ২০২৩
আখ সংকটে নাটোর চিনিকলের মাড়াই শেষ

নাটোর: ৪ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ০২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে শুরু হয়েছিল নাটোর চিনিকলের ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩৯তম আখ মাড়াই কার্যক্রম। সেখানে ৫৪ কার্যদিবসে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল।

চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ২০ ভাগ।

কিন্তু গত ৩৭ দিনের মাথায় আখ সংকটের কারণে চিনিকলটির মাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। মাত্র ৫০ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ২ হাজার ৮০৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। এতে চিনি আহরণের হার ছিল ৫ দশমিক ৭৪ ভাগ।

আথচ আখ সংকট বলা হলেও এখনও মিল জোন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন আখ রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব আখ বেশি দামে পাওয়ার ক্রাশারে গুড় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছেন চাষিরা এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে এবারও এই চিনিকলটিতে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলো না। এতে লোকসান গুনতে হবে অন্তত  কোটি টাকা।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আখ মাড়াই কার্যক্রম শেষ হয়। বিকেলে নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৫৪ দিন কর্মদিবস নিয়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মৌসুম শুরু হয়। অথচ গত ৩৭ দিনে এ চিনিকলে মাত্র ৫০ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন আখ মাড়াই হয়েছে।

তিনি বলেন, চাষিদের চিনিকল থেকে সার, বীজ ও নগদ টাকাসহ ঋণ নিয়ে চুক্তি মোতাবেক মিলে আখ সরবরাহের কথা ছিল। এমনকি চিনিকলে আখ সরবরাহ করার জন্য চাষিদের উদ্বদ্ধু করা হয়েছে। কিন্তু সেটি না করে তারা অতিরিক্ত মুনাফায় পাওয়ার আশায় ক্রাশারে আখ বিক্রি করছেন। সেখানে তারা গুড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমণ আখের মূল্য পেয়েছেন ২৫০-২৮০ টাকা। চিনিকল থেকে মণ প্রতি আখের মূল্য দেওয়া হতো মিল গেইটে ১৮০ এবং বাহিরে ১৭৬ টাকা। চাষিরা মিলে ঠিকমত আখ সরবরাহ না করায় এবার আখ সংকটে বন্ধ হলো এই চিনিকলটি।

তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমের তুলনায় এবার ৩০ হাজার মেট্রিক টন বেশি আখ মাড়াই করার কথা ছিল। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবার ১ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক বেশি চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। যা সঠিক ভাবে এবং সঠিক সময়ে আখ মাড়াই শেষ হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতো এবং আখচাষিরাও লাভবান হতেন। কিন্তু সেটি আর সম্ভব হলো না। উপরোন্ত এবারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন কম চিনি উৎপাদন হয়েছে। তবে আখের তুলনায় চিনি আহরণের মাত্রা একটু বেশি ছিল বলে দাবি করেন।

নাটোর চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫৪ দিন কার্যদিবসে ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চিনি আহরণের হার ধরা হয় ৬ দশমিক ২০ ভাগ।

সেই লক্ষ্য অর্জনে গত ০২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে চিনিকলের কেইনে ক্রেরিয়ার ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপ করে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। সেসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের এনডিসি, যুগ্মসচিব ও পরিচালক (অর্থ) খোন্দকার আজিম আহমেদ, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চেীধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজানসহ চিনিকলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকতা, সিবিএ নেতা ও আখচাষি।

সূত্র জানায়, গত মৌসুমে ২০২১-২২ মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে মাড়াই হয়েছিল ৫৫ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন আখ। আর চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৪ মেট্রিক টন। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫০ ভাগ, সেখানে অর্জিত হয়েছিল ৫ দশমিক ৩৬ ভাগ।

এছাড়া ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অতিরিক্ত ৪ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়েছে এবং আখ মাড়াইয়ের কর্মদিবস ছিল মাত্র ৪২ দিন। অন্যদিকে ওই সময়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করতে সক্ষম হয় চিনিকলটি।  

সূত্র আরও জানায়, এ বছর নাটোর চিনিকল এলাকায় ৪ হাজার ৫৩৬ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত আখ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন মাড়াই করা সম্ভব ছিল। এই চিনিকলের ৮টি সাবজোনের ৪৮ কেন্দ্রের অধীনে আখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত আখ চিনিকলে সরবারহ জন্য প্রচার চালানো হয়।

নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. ফেরদৌসুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, এই চিনিকল এলাকার বাহিরে প্রচুর পরিমাণ অবৈধ পাওয়ার ক্রাশার রয়েছে। সেখানে নাটোর চিনিকল এলাকার আখগুলো পাচার হচ্ছে। এসব আখ চাষিরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে আখ সংকটে পড়ে নাটোর চিনিকল। ফলে চাষিরা আখ সরবারহ না করায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। অথচ আখ সরবরাহ থাকলে আরও তিন মাস মিল চালু থাকতো এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতো।

বাংলাদেশ সময়: ০৮০৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০২৩
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।