ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭ রজব ১৪৪৪

অর্থনীতি-ব্যবসা

অ্যাননটেক্সের ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৫, ২০২২
অ্যাননটেক্সের ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্ত সাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় এই ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অ্যাননটেক্সের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় তা পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) জনতা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা একটি চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, লামিসা স্পিনিং লিমিটেড, জারা ডেনিম লিমিটেড, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সুয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডসহ অ্যাননটেক্স গ্রুপের ১৭টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ঋণস্থিতি তিন হাজার চৌষট্টি দশমিক ছয় তিন কোটি (৩৫৬৪.৬৩ কোটি) টাকার ঋণ  পুনঃতফসিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডাউন পেমেন্ট বাবদ আদায় করা ৭১.৬৪ কোটি সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবসমূহে জমা করার পর পুনঃতফসিল সুবিধাটি কার্যকর হবে।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবদুছ ছালাম আজাদ বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যেও অ্যাননটেক্স গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠান চালু রেখে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি এ সময়ে অ্যাননটেক্সের দেশে বিনিয়োগের সত্যতা পেয়েছে ব্যাংক। গ্রুপটি ইতোমধ্যে ৮৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। আরও ২৫ কোটি টাকা জমা দেবে। এজন্য সব ঋণ নিয়মিত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তা অনুমোদন দিয়েছে।

অ্যাননটেক্স ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর গত সাড়ে সাত বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার ৮৮ কোটি ২৩ লাখ টাকারও বেশি পরিশোধ করেছে।  ২০১৪ সালে অ্যাননটেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংককে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর ২০১৫ সালে ২৩৬ কোটি, ২০১৬ সালে ২৯৬ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৪২ কোটি ও ২০১৮ সালে ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রুপটি। ২০১৯ সালে নানা বিতর্ক সত্ত্বেও ৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে অ্যাননটেক্স। আর ২০২১ সালে পরিশোধ করেছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।

এদিকে, দুদকের চিঠিতে জানা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ না পাওয়ায়, দুদক তা পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এছাড়াও আরেকটি চিঠিতে সংস্থাটি জানায়, অ্যাননটেক্স গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জামানত না দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় শত শত কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ সংক্রান্ত যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়নি।

এ বিষয়ে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও গ্রুপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আছে। কিস্তি পরিশোধ ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের সব ঋণ নিয়মিত করার যে সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে তা কাজে লাগিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হবে।
 
প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছর উৎপাদনে থাকলে জনতা ব্যাংকের সব ঋণই পরিশোধ হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অ্যাননটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৫, ২০২১
এনএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa