ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ শাবান ১৪৪৫

শিক্ষা

ঢাবিতে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ ঠেকাতে অভিনব পোস্টারিং

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০২৩
ঢাবিতে যত্রতত্র মূত্রত্যাগ ঠেকাতে অভিনব পোস্টারিং

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন দেওয়াল, ফুটপাত ও খোলা জায়গায় প্রস্রাব করা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গণপ্রস্রাবখানা স্থাপনের দাবি জানিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর কাছে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) তারা প্রক্টরের কার্যালয়ে এ চিঠি জমা দেন।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়াল ও মূত্রত্যাগের জায়গাগুলোতে অভিনব পোস্টারিং করা হয়েছে। যে দেওয়ালে মানুষ প্রস্রাব করে সেখানে ‘আমি কুকুর, আমি রাস্তায় প্রস্রাব করি’ লিখা লিফলেট টানিয়ে দিয়েছে তারা।

 বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণশৌচাগারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বহিরাগত ও রিকশাওয়ালারা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অবর্ণনীয়ভাবে বিনষ্ট করছে। রাস্তায় গাড়ির জ্যাম ও ফুটপাতে প্রস্রাবের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে হাঁটাচলা করা একেবারেই দুরূহ হয়ে পড়েছে।  

চিঠির বিষয়ে জানতে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমরা আমাদের দাবিটা নিয়ে যখন প্রক্টর স্যারের কাছে গেলাম তখন তিনি দাবিটা পাশ কাটিয়ে গেছেন এবং আমাদের বলেছেন এরকম গণশৌচাগারের ব্যবস্থা করলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা আরও বেশি বাড়বে। তখন আমরা বললাম আপনারা যেহেতু বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করছেন না সেহেতু তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিতে হবে। না হলে তারা এভাবে খোলা জায়গায় প্রস্রাব করবেই।  

এরপর এ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা প্রক্টর স্যারকে ক্যাম্পাসের যে যে জায়গায় এরকম খোলাভাবে মূত্রত্যাগ হয় সেই জায়গাগুলো সাদা কাগজে লিখে চিহ্নিত করে আসছি। তিনি দু-একদিনের মধ্যেই ওই স্থানগুলোতে তারের বেড়া দিয়ে মূত্রত্যাগ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা বহিরাগত, ভবঘুরে ও উন্মাদ লোকের উৎপাত নিয়ন্ত্রণের কথাও স্যারকে জানিয়েছ। তখন তিনি বলেছেন আমরা সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।  

আরেক শিক্ষার্থী সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন জানান, যত্রতত্র মূত্রত্যাগের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলের মেয়েদের ভোগান্তি বেশি হয়। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে মূলত আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রক্টর স্যার আমাদেরকে যেটা বলেছেন, পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা না গেলেও যে স্থানগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি সেই স্থানে গাছ লাগিয়ে বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাতে এই সব বন্ধ করা যায় সে ব্যাপারে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।  

৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল ফয়সাল বলেন, ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটা জায়গায় খুবই খারাপ অবস্থা। ওই জায়গাগুলো দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। একটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এরকম পরিস্থিতি আশা করা যায় না। আমার মনে হয় গণশৌচাগার স্থাপনের চাইতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করাটাই বেশি জরুরি। কারণ এখানে বহিরাগতরা মূলত প্রস্রাব করে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১২০৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০২৩
এসকেবি/এসএএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।