ঢাকা, শনিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

শিক্ষা

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জলবল তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০৪২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জলবল তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

ঢাকা: দেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সাবেজেক্টের বাইরে সফট নলেজের ওপর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

 

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন প্রকল্পের (আইসিএসইটিইপি) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।  

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ইউজিসি’র সিনিয়র কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই/আইটি বিভাগের অধ্যাপকবৃন্দ অংশ নেন।  

ইউজিসি’র তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগের যুগোপযোগী ক্যারিকুলাম, অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাব গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আইসিএসইটিইপি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়িত হলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেন এ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারেন সে দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, আইসিটি বিষয়সমূহ সদা পরিবর্তনশীল। তাই পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে পরিবর্তন আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আলমগীর বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে আইসিএসইটিইপি প্রকল্প গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এ প্রকল্প তথ্য-প্রযুক্তি খাতের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের ব্যবধান কমাবে ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেতুবন্ধন তৈরি করবে।  

ইউজিসি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক আকন্দ প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন।

এই প্রকল্পের আওতায় আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। দেশের শ্রম নির্ভর বিভিন্ন খাতকে প্রযুক্তি দক্ষতাসম্পন্ন জনবল সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে এ প্রকল্প সহায়ক হবে।  

দেশে আইসিটি খাতের উন্নয়নে এবং দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলার জন্য গৃহীত আইসিএসইটিপি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা। মোট ব্যয়ের ৮৭.৭২ শতাংশ বহন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকার বহন করবে বাকি ১২.২৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ সময়: ১০৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
এমআইএইচ/এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
welcome-ad